ইসলামপুরে ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ এমপির
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরের ইসলামপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইনের বিরুদ্ধে একটি অনুষ্ঠানে প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ইসলামপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতের চর বাজার সংলগ্ন ঈদগাহে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সম্বোধনে এই প্রটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান এমপি।
প্রটোকল লঙ্ঘনের ঘটনায় রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সি (রাষ্ট্রীয় ও সরকারি আচার-অনুষ্ঠানে পদাধিকারীদের আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদা ক্রমতালিকা) নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করছেন সুধীমহল। তবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে মুখ খুলেন নি ইউএনও।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার তালিকাভুক্ত ৩ হাজার ৭৭৯ কৃষকের কৃষক কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠান চলছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর নাপিতেরচর বাজারসংলগ্ন ঈদগাহে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মূখ্য আলোচক ছিলেন জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামালপুর-৫ সদর আসনের এমপি শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান এবং জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইউএনও নাজমুল হুসাইন।
অনুষ্ঠান চলাকালে দেখা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে সামনের সারিতে নিজ নিজ আসনে বসা অতিথিরা। এরমধ্যে রয়েছেন সুবিধাভোগী কৃষক, গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা-সদস্যসহ আগত মানুষেরা। অনুষ্ঠান শুরু হতেই অনুষ্ঠান সঞ্চালনকারী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন মাইকে এমপিদের নাম সম্বোধনের আগে এসপি এবং অন্যদের নাম ঘোষণা করছেন। এ সময় পদমর্যাদা লঙ্ঘন হচ্ছে মর্মে আপত্তি তুলেন এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
এ ঘটনায় তিনি সঞ্চালক জাকির হোসেনকে ডেকে পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে বলেন। 'ইউএনওর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী অতিথিদের নাম সম্বোধন করা হচ্ছে' এ কথা জাকির হোসেন জানালে ইউএনওর ওপর রেগে যান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। একপর্যায়ে তিনি নির্ধারিত আসন থেকে উঠে ইউএনও নামজুল হুসাইনের সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে পদমর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেন।
এতে বিতর্কের সৃষ্টি হলে কয়েক মিনিট অনুষ্ঠান সঞ্চালনা বন্ধ থাকে। বিষয়টি নিয়ে ডিসি মোহাম্মদ ইউসুপের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। পরে সঞ্চালক পরিবর্তন করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য-সচিব মাজহারুল ইসলাম বিপুলকে দেওয়া হলেও যথাযথভাবে সঞ্চালনা না হওয়ায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে অনুষ্ঠান আয়োজকদের নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে কৃষক কার্ড বিতরণকালে সঞ্চালনায় অংশ নিয়ে অনুষ্ঠান মুলতবি ঘোষণা করেন ইউএনও নামজুল হুসাইন।
অনুষ্ঠানের পর ইউএনও নামজুল হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নিতে একাধিকবার মোবাইল করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের কল রিসিভ করেন নি। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া যায় নি!
এ বিষয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনকারী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, 'অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করার কথা ছিলো ইউএনও স্যারের। আমি অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে গিয়েছিলাম। অতিথিদের নামের তালিকার একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে ইউএনও স্যার আমাকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব দেন। আমি অপ্রস্তুত ছিলাম। অতিথিদের সম্বোধনে আমি এসপি স্যার এবং অন্যান্যদের নাম এমপি মহোদয়দের নামের আগে ঘোষণা করলে পদমর্যাদা লঙ্ঘন হচ্ছে মর্মে জানান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল স্যার। এটা অবশ্য অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় আমার পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় ঘটেছে। এতে আমরা দুঃখিত।'
(আরআর/এসপি/এপ্রিল ১৫, ২০২৬)
