হাবিবুর রহমান রুবেল, ঝিনাইদহ : গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে নিয়মিতই আসেন শিক্ষকরা। সকাল হলেই খুলে যায় ভবনের দরজা, ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা হয় পাঠের বিষয়। উপস্থিতির খাতাও প্রস্তুত থাকে। তবে দিনের শেষে থেকে যায় এক অদ্ভূত শূন্যতা। শিক্ষার্থী নেই, শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা। এমন দৃশ্য দেখা গেছে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সম্প্রতি সরেজমিন ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে, তৃতীয় শ্রেণীর মাত্র একজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে। অন্যান্য শ্রেণীকক্ষ ছিল শিক্ষার্থী শূণ্য। তবে হাজিরা খাতায় ১২ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। অফিস ও শ্রেণীকক্ষ অগোছালো ও অপরিষ্কার। শিক্ষার্থী না থাকায় নেই কোনো কোলাহল, স্কুলজুড়ে সুনসান নীরবতা। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় শিকানুরাগীরা। তবে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। তখন থেকে নিয়মিত বেতন পান শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। এছাড়াও কাছাকাছি আরো তিনটি প্রাথমকি বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষকের বিপরীতে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। দীর্ঘদিন ধরে ওই তিন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষার্থী না থাকায় শূন্য পদের তিনজন শিক্ষকের পদ পূরণ হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে ২০ জন শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে। প্রথম শ্রেনি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১২ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি দেখানো হয়েছে। শিক্ষার্থী না থাকার কারণে বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ভুতুড়ে পরিবশে সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ওই স্কুলে বেশকিছু জটিলতা রয়েছে। এরপরও আমি চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখি করতে। আশা করছি আগামী বছর সকল জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুরুল হক বলেন, ‘আমাদের স্কুলের পাশে একটি এবং এক কিলোমিটারের মধ্যে আরো দুইটি প্রাথমকি বিদ্যালয় হওয়ায় শিক্ষার্থী কমে গেছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে পারছি না। অনেক শিক্ষার্থী মাদরাসা ও উপজেলা সদরের কিন্ডারগার্টেনে লেখাপড়া করছে। এ কারণে কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমকি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়টি বর্তমানে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেই বললেই চলে। শিক্ষার্থী কম থাকায় পাশর্বর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে এই বিদ্যালয়টিকে একীভূত করতে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

(ওএস/এসপি/এপ্রিল ১৫, ২০২৬)