নড়াইলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষিকাকে শোকজ
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় ওই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে শোকজ করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
আজ বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপক কুমার দাস ও শিক্ষিকা রানী চক্রবর্তী।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লোহাগড়া উপজেলার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার পর অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর চিঠি (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৬ এপ্রিল) স্কুল চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে লোহাগড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম রব্বানীকে প্রধান করে তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তাদের শোকজ করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী তুচ্ছ ঘটনায় ব্ল্যাকবোর্ডের ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরিবার আরও জানায়, এর আগেও গত ১ এপ্রিল একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমার বিরুদ্ধে কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করে, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই বরং অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় শিক্ষার্থীকে মারধোর করা হয়।
কৃষ্ণ হালদারের বাবা উত্তম হালদার বলেন, 'পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধোর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী বলেন, আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধোরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।
(ওএস/এসপি/এপ্রিল ১৫, ২০২৬)
