অবশেষে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন
লোহাগড়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জেলেদের মধ্যে গরু বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতি
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ১টি পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়নের নিবন্ধিত ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী জেলেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬০টি গরু ও গোখাদ্য বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ বুধবার লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সারের নির্দেশে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শেখ সালমান জামানকে। এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সুশান্ত মজুমদার।
শুরু থেকেই এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে চরম গোপনীয়তা অবলম্বন করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব গবাদিপশু প্রকৃত জেলেদের মধ্যে হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে কাদের মধ্যে গরুগুলো দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়।
প্রকল্পের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় সাংবাদিকরা সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণের বিস্তারিত জানতে গত ১২ এপ্রিল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খানের কার্যালয়ে গেলে তিনি সাংবাদিকদের
অসহযোগিতা করেন। সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা না করে উল্টো ক্ষুব্ধ হন তিনি।
এ ঘটনার পর ১৩ এপ্রিল গরু বিতরণে অনিয়ম ও দূর্নীতির খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং স্হানীয়সহ জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার তড়িঘড়ি করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
(আরএম/এসপি/এপ্রিল ১৫, ২০২৬)
