চিৎমরমে জলকেলি উৎসবে মেতেছেন তরুণ-তরুণীরা
রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : পার্বত্য চট্টগ্রামের সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র কাপ্তাইয়ের চিৎমরম এখন উৎসবের জনপদ। মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই রিলং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসবের মৈত্রী পানিবর্ষণে ধুয়ে মুছে গেছে পুরনো বছরের সব গ্লানি।
আজ বুধবার সকালে চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান (এমপি)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সামাজিক উৎসবের মাধ্যমেই আমাদের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ‘সাংগ্রাই’ এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়, এটি পাহাড়ের সকল জাতি-গোষ্ঠীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এই উৎসবগুলো আমাদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ, আজকের এই বিশাল মিলনমেলাই তার প্রমাণ। তবে পাহাড়ের অনেক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে, যা রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে।
মন্ত্রী কর্তৃক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় উৎসবের মূল আকর্ষণ ‘জলকেলি’। এ বছর উৎসবের বিশেষত্ব ছিল তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। মোট ১০৮টি দল এই জলকেলি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি দলে ১৮ জন তরুণ এবং ১৮ জন তরুণী একে অপরের গায়ে পবিত্র পানি ছিটিয়ে মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন। বাদ্যের তালে তালে তরুণ-তরুণীদের এই পানিবর্ষণ পুরো এলাকায় এক নান্দনিক আবহ তৈরি করে।
উৎসবের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শত শত নর-নারী একটি বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিটি এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উৎসবের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে গত ১৩ এপ্রিল থেকেই চলছে বৈশাখী মেলা। বিহারে বুদ্ধ পূজা, বুদ্ধ মূর্তি স্নান ও বয়স্কদের স্নান করানোর মাধ্যমে ধর্মীয় আচারগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।
সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াইমং মারমার সভাপতিত্বে এবং সানুচিং মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টু ও সাইফুল ইসলাম পনির, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রবীন্দ্র চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ এ
বং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেনসহ সামরিক-বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ের বর্ষবরণ উৎসবের ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হওয়া মারমাদের এই জলকেলি উৎসব কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পল্লীতে আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। উৎসবকে ঘিরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে বৃহত্তর জলকেলি উৎসবের মধ্য দিয়ে এবারের পাহাড়ের বর্ষবরণ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
(আরএম/এসপি/এপ্রিল ১৫, ২০২৬)
