ফরিদপুর বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, এক দশকে সম্পদের পাহাড়
দিলীপ চন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান কামরুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, তার টেবিলে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। ২০১৪ সালে চাকরিতে যোগদানের পর এক দশকের ব্যবধানে তার বিপুল সম্পদ গড়ে ওঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
যেভাবে উত্থান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুলের ভগ্নিপতি ফরিদপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালী দালাল ছিলেন। সেই সূত্রেই ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি চাকরিতে যোগ দেন। চাকরির শুরুতে সীমিত সম্পদের মালিক হলেও বর্তমানে তার নামে ও বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগ রয়েছে।
সম্পদের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ অনুযায়ী, কামরুল নিজ এলাকার তাম্বুলখানা ও সমেপুর বাজার এলাকায় কয়েক দফায় কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে।
শুধু নিজের নামে নয়, স্বজনদের নামেও সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। তার ভগ্নিপতি জহির শেখের নামে মধুখালীর মাঝকান্দি বাজারে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দোকান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এছাড়া শ্বশুরবাড়ি এলাকায় ২৫-৩০ লাখ টাকার বাগান, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও জমি থাকার অভিযোগও উঠেছে।
পরিবহন খাতেও বিনিয়োগ
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরিবহন খাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। ঢাকা মেট্রো-ক-২০-৫৮৩১ এবং ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৩৩৭০ নম্বরের দুটি আন্তঃজেলা ট্রাকের মালিকানা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।
অফিসে আচরণ নিয়ে অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, কামরুল অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না এবং অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও উপেক্ষা করেন।
সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে অর্থ প্রদান না করলে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান কামরুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ শুনেছি। যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
(ডিসি/এসপি/এপ্রিল ১৬, ২০২৬)
