ইরানওয়ালারা এখন পাকিস্তানের পক্ষে মিউজিক বাজাচ্ছে!
শিতাংশু গুহ
ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যে সম্পূন উন্মুক্ত। অবরোধ এখনো আছে, তবে বেশিদিন থাকবে বলে মনে হয়না। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তির যে খসড়া প্রকাশ করেছে তা সঠিক হলে ট্রাম্প ব্যাপকভাবে বিজয়ী। তেলের দাম একদিনে ১১৮ ডলার থেকে ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে। যারা এতদিন ইরানের পক্ষে চিৎকার করছিলো তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এ চুক্তি স্বাক্ষর হলে বুঝতে হবে ‘বিড়াল সাঁধে গাছে ওঠেনা’ (ইরানের জন্যে)। বাংলাদেশী ইরানওয়ালারা এখন পাকিস্তানের পক্ষে ‘মিউজিক’ বাজাচ্ছে।
ইসলামাবাদে আলোচনাটা ঠিক কখন শুরু হয়েছে মনে আছে তো? যখন ট্রাম্প বলেছেন, শর্ত না মানলে ইরানী সভ্যতা ধ্বংস করে দেবেন। চীন ইরানকে বুঝিয়েছে, এটি ঘটবে, কাজেই বৈঠকে বসতে হবে, ইরান বসেছে। বৈঠক ব্যর্থ। যুদ্ধবিরতি বহাল। এরপর আসলো নৌ-অবরোধ। সাথে নুতন হুমকি, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা পার, তো নুতন আক্রমন। আবারো চীন, বললো, শর্ত মেনে নাও, ইরান মানলো। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান ইরান ও গালফ রাষ্ট্রগুলোতে ছুটোছুটি করলো। এরমধ্যে লেবাননে যুদ্ধবিরতি হয়ে গেলো। ট্রাম্প কেন জানি মোদিকে ফোন দিলেন। ট্রাম্প কি ম্যাজিক জানেন?
ইরানের সমবৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোন তৃতীয় দেশে যাবে। রাশিয়া নিতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্র কি সেটি শত্রুর হাতে দেবে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি ভারতকে এটি নিতে বলছেন? ভারত কি নেবে? ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষর হলে তিনি পাকিস্তান যাবেন। সেক্ষেত্রে তিনি কি ভারতও যাবেন? যদি যান, তাহলে বুঝতে হবে, ইরানের সমবৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভারতে যাচ্ছে, কারণ রাশিয়া আপত্তি করবে না? আবারো প্রশ্ন ভারত কি রাজি হবে? এটি ভবিষ্যতে নুতন ঝামেলার সৃষ্টি করবে না তো? যাহোক, যুদ্ধ থেমে গেছে। বিশ্ব স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছে। ট্রাম্পকে যাঁরা ‘উন্মাদ’ ভেবেছিলো, তারা এখন নিজেরাই উন্মাদ হয়ে যাচ্ছেন।
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।
