রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরার শিশু ধর্ষণ দমন ট্রাইব্যুনালের  বিচারক আবু বক্কর ছিদ্দিকী এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীর নাম ইব্রাহীম গাজী ওরফে ইব্রা (৫১)। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বারিখুপি গ্রামের মোসলেম গাজীর ছেলে। মামলায রায় প্রদানকালে আসামী ইব্রাহীম কাঠগোড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর মাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়া হলে কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙা গ্রামের নানীর বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াশুনা করতো ১০ বছর বয়সী এক কণ্যা শিশু। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ বিকেলে স্থানীয় মসজিদে ইফতারির জন্য থালা ও বাসন ধুঁয়ে বিকেলে বাড়ি ফিরছিল ওই ছাত্রী। পথিমধ্যে বাড়ির সামনে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা আসামী ইব্রাহীম তাকে বিস্কুট কেনার জন্য ২০ টাকা দিয়ে ঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় তাকে কামড়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মেয়েটি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। স্থানীয়রা ছুঁটে এসে ঘটনা শুনে ইব্রাহীমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর নানী বাদি হয়ে পরদিন ইব্রাহীমের নাম উল্লেখ করে ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারায় কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক সেকেন্দার আলী পাইক ওই বছরের ২০ জুন এজাহারভুক্ত ইব্রাহীমের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আট জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথি পর্যালোচনা শেষে আসামী ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় বিচারক আবু বক্কর ছিদ্দিকী তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। আসামী ইব্রাহীম গাজী গ্রেপ্তারের পর থেকে জামিনে মুক্তি পাননি।

আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন লিগ্যাল এইডের অ্যাড. বদিউজ্জামান বাচ্চু। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. শেখ আলমগীর আশরাফ।

মামলার রায় সম্পর্কে বাদি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, রায় নিয়ে আনন্দ পাওয়ার কিছু নেই। কারণ তিনি প্রথমে মামলা করতে চাননি। মামলার আগে আসামীর বড় বোনের কাছে গেলে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। বাধ্য হয়ে তিনি মামলা করেন।

(আরকে/এসপি/এপ্রিল ২০, ২০২৬)