রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ১৯৭১ সালের আজকের এই বিশেষ দিনে বাগেরহাট খুলনা , পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭০০ এর বেশি ভারতে গমনকারি শরনার্থী সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়য়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও পাকহানাদার বাহিনী খবর পেয়ে ওইসব শরনার্থীদের রাতের আঁধারে গুলি করে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যায়নট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যার পর লাশ দীনেশ কর্মকারের পুকুরে ফেলে মাটি চাপা দেয়। এ নির্মম হত্যার ৫৫ বছরেও সেখানে ওইসব শহীদদের স্মরণে কোন স্মৃতিসৌধ গড়ে ওঠেনি। সরকারিভাবে সারা দেশে বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও ¯তৃতিসৌধ নির্মাণে মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ করা হলেও এ বধ্যভূমিটি আজো সংরক্ষণ করা হয়নি। উপরন্তু বধ্যভূমিতে যাতায়াতের জন্য সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছন দিয়ে যে সরকারির্ াস্তা ছিল তা একটি ষড়যন্ত্রকারি মহল রাতের আঁধারে টিন দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি জেলা প্রশাসনের ভূমিকা যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা এর কোন সঠিক জবাব দিতে পারবো না।

আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সাতক্ষীরা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে বধ্যভূমিতে বধ্যভূমি স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি বীর মুৃক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সুভাষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় সংগঠণটির সদস্য সচীব অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যাণার্জী, রঘুনাথ খাঁ, জাসদ নেতা অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, জাসদ নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, বাসদ নেতা অ্যাড, শেখ বেলাল হোসেন, শিক্ষক সুভাষিশ পাল এসব কথা বলেন।

সভায় শহীদদের স্মরনে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

(আরকে/এসপি/এপ্রিল ২১, ২০২৬)