ফরিদপুরে সরবরাহ করা হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকরও কম বিদ্যুৎ
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র জ্বালানিসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিততে বিপাকে পরেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিও। তারা তাদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাচ্ছে, যা লোডশেডিংয়ের পরিমাণ মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে ফরিদপুরের ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ খুলনা বিভাগের ১০টি কেন্দ্রের অন্তত ৬টি বন্ধ রয়েছে।
ফরিদপুরে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। পিক আওয়ারে এ চাহিদা বেড়ে পৌঁছায় ৬৭ মেগাওয়াটে। তবে এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৬ মেগাওয়াট যা চাহিদার অর্ধেকেও কম। এছাড়া, শুধুমাত্র ফরিদপুর শহরে বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে ৫ মেগাওয়াট। এই ৫ মেগাওয়াট সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে ক্রমাগতভাবে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর লোডশেড রাখতে হয় বিদ্যুৎ বিভাগকে। যারফলে, শহরের বাইরের এলাকাগুলোতে দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এ সংকট মেটানোর উপায় একমাত্র ফুয়েল সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে বন্ধ হওয়া দেশের প্রায় ৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পুনরায় চালু করা। বিশেষ করে খুলনা বিভাগীয় অঞ্চলের সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া ৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে এ অঞ্চলের লোডশেড কিছুটা হলেও কমতে পারে। এসব ছাড়া অন্য কোনো পথে এ সংকট মেটানোর কোনো উপায় নাই বলে মনে করছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এর পরিচালন ও সংরক্ষন সার্কেল, ফরিদপুর এর একাধিক কর্মকর্তা।
আজ বুধবার বর্তমান এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে 'দৈনিক বাংলা ৭১' এর সাথে টেলিফোনে খোলামেলা আলোচনায় এসব তথ্য জানান তারা।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ফরিদপুরে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং এলাকার আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন অবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হলে ফরিদপুরের শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা হুমকিতে পড়তে পারে। এমনকি একাধিক উৎপাদন শিল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ এর এমন সংকটে মধ্যেও শিল্প কারখানাগুলোকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ বলে জানিয়েছে ওজোপাডিকো, সেই সাথে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে এ অবস্থা নিরসন হবে বলেও জানিয়েছে ফরিদপুরের বিদ্যুৎ পরিচালন ও সংরক্ষন সার্কেলের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা।
(আরআর/এসপি/এপ্রিল ২২, ২০২৬)
