শিতাংশু গুহ


পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শুরু, প্রথম ধাপ ২৩ এপ্রিল ২০২৬, দ্বিতীয় ধাপ ২৯শে এপ্রিল ২০২৬। ফলাফল ঘোষণা ৪ঠা মে। ভারতে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্তিশালী, নির্বাচন হয় সুষ্ঠূ ও অবাধ। কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটে পশ্চিমবঙ্গে, সেখানে মমতা ব্যানার্জী’র তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশ, প্রশাসন ও গুন্ডাবাহিনী ব্যবহার করে ফলাফল নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হ’ন। নির্বাচন কমিশন এবার এদিকটায় নজর দিয়েছেন, পুলিশকে অকার্যকর করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছেন। প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন করেছেন যাতে ভোট গণনায় কারচুপি না হয়। গুণ্ডাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে, এবং তৃণমূল কারচুপির সুযোগ না পেলে এবার বিজেপি জিততে চলেছে। 

আরো কারণ আছে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা একচেটিয়া মমতা ব্যানার্জীকে ভোট দেয়, এবার কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটছে। মমতার গুন্ডাদের বেশিরভাগ মুসলমান, তৃণমূলের লাইসেন্স পেয়ে এঁরা মানুষের ওপর অত্যাচার করে। এতে সাধারণ হিন্দুরা বিরক্ত এবং হিন্দুরা এবার আগের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেকবেশী ঐক্যবদ্ধ। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা একজোট হয়ে হিন্দু হিসাবে বিজেপি’র পক্ষে ভোট দেবে। মমতা ব্যানার্জী’র মুসলিম তোষন হিন্দুদের টিএমসি-বিমুখ করেছে। এসআইআর- হবার ফলে প্রায় ১কোটি ভুয়া ভোট কমেছে, এগুলো তৃণমূলের জালভোট, শোনা যায় এরমধ্যে অর্ধেকই মৃতভোট। সীমান্ত এলাকায় প্রচুর মুসলমান বাংলাদেশী মমতার ভোটব্যাঙ্ক ছিলো, এরা এবার আসতে পারবে না?

২০২১’র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বহু আসনে খুব কম ভোটে হেরেছে। তৃণমূলের ভোট সামান্য কমলে এবং সেটি কমেছে, বিজেপি’র জয় নিশ্চিত। গতবারের চেয়ে এবার বেশি ভোট পড়বে, কারণ মানুষ জেগেছে। এই প্রথম লক্ষ্য করা গেছে যে, পরিযায়ী শ্রমিকরা অন্য স্টেট থেকে ঘরে ফিরছে ভোট দিতে, এতে বিমান ভাড়া বেড়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে রীল বলছে, এবার ভোট নাকি ‘জয় শ্রীরাম ভার্সেস ‘আল্লাহুআকবার’-এর মধ্যে। ঠিক অতটা না হলেও মমতা ব্যানার্জী দলের সকল অপকর্ম ‘দুধেল গাইদের’ দিয়ে করিয়েছেন। বোমাবাজি, দাঙ্গা, ধর্ষণ এসব ঘটনা বহুলাংশে তৃণমূলের দুধেল গাইদের কাজ, পেছনে মমতা ব্যানার্জী। এছাড়া রাজ্যে শিল্প নেই, চাকুরী নেই, আছে শুধু ভাতা। তৃণমূলকে লোকে এখন ‘চোর’ই বলে, চাকুরী চোর, ফাইল চোর, আরো কতকি?

পুরো পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এন্টি-তৃণমূল বিরোধী হাওয়া বইছে, মমতার পক্ষে আছে শুধু দুধেল গাইরা, ভাতা খাওয়া কিছু মানুষ, কিছু চোর, কিছু ‘গরু-খাওয়া’ সুমন কবিরের মত বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী বুদ্ধিজীবী। নির্বাচন এলেই মমতা ও তার পোষা লোকজন নানান নাটক করে, এবার কোন নাটকে কাজ হচ্ছেনা। কবি শ্রীজাত গ্রেফতার নাটক সাজিয়েছেন, তার জন্যেই হয়তো মহারথীরা বলে রেখেছেন, ‘দূর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য’। আমি ভারতীয় নই, ভোটার নই, দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস এবার ১০০ আসনের কম পাবে। পশ্চিমবঙ্গের গৌরব ফিরিয়ে আনতে তৃণমূলকে বিদায় দেয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই? সিপিএম ও তৃণমূলের অপশাসনে পশ্চিমবঙ্গ ধুঁকছে। তদুপুরি ‘পরিবর্তন চাই’ শ্লোগান উঠেছে। তৃণমূল দেড়যুগে কিছু করতে পারেনি, আগামীতে পারবে একথা ভাবার কোন সুযোগ নেই!

পশ্চিমবঙ্গ এতকাল বাঙ্গালী হিন্দুরা শাসন করেনি। বিধান রায় ও সিদ্ধার্থ শংকর রায়কে বাদ দিলে জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব বসু পূর্ববঙ্গ থেকে মুসলমানের তাড়া খেয়ে পশ্চিমবাংলায় রিফ্যুজি হয়ে এসে মেকি কমিউনিষ্ট সেঁজে চীন-সোভিয়েতের গুনগান গেয়েছেন, মুসলিম তোষণ করেছেন। মমতা ব্যানার্জী তো আরো একধাপ এগিয়ে পুরাই ‘মমতা বেগম’। একটি ঘটনা দিয়ে লেখাটা শেষ করি? ২০১৭-তে কলকাতায় ‘বাংলাদেশ হিন্দু নির্যাতনের ওপর একটি সেমিনারে বক্তব্যে আমি বলি: ‘বাংলাদেশে আমার আপা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গ আমার দিদি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মৌলবাদীদের তোষণ করে দেশ-রাজ্য ও হিন্দুদের ক্ষতি করছেন’। এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধান অতিথি গভর্নর ড. তথাগত রায় বলেন, ‘শিতাংশু, আপনার দিদি আর দিদি নাই, বেগম হয়ে গেছেন’। দিলীপ ঘোষ ও বাংলাদেশের ক’জন নেতা এসময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।