ইরান বিশ্বকাপ খেলতে পারবে, তবে আইআরজিসি সংশ্লিষ্টরা নিষিদ্ধ
স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলের অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, খেলোয়াড়রা এলেও তাদের সাথে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কোনো সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই চলতি বছরের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিশেষ করে ইরানের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত থাকায় এই সংকট ঘনীভূত হয়।
এই বিষয়ে রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে বলেনি যে তারা আসতে পারবে না। সমস্যা অ্যাথলেটদের নিয়ে নয়, সমস্যা হলো তাদের সঙ্গে আসতে চাওয়া সেই ব্যক্তিদের নিয়ে যাদের সঙ্গে আইআরজিসির যোগসূত্র রয়েছে।
’
যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসি-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। রুবিও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা একঝাঁক আইআরজিসি সন্ত্রাসীকে সাংবাদিক বা ট্রেইনার সাজিয়ে আমাদের দেশে নিয়ে আসতে পারে না।
’
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তার প্রশাসন অ্যাথলেটদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে চায় না।
এদিকে, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া ইতালিকে ইরানের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব উঠে এসেছে। গ্লোবাল রিলেশনস বিষয়ক মার্কিন দূত পাওলো জাম্পোলি এই প্রস্তাবটি ট্রাম্প এবং ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দিয়েছেন।
তবে ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রে আবোদি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘মাঠের লড়াইয়েই যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।’
অন্যদিকে দেশটির অর্থমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার অনুরোধ করলেও ফিফা তা নাকচ করে দেয়। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।
(ওএস/এএস/এপ্রিল ২৫, ২০২৬)
