গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : মায়ের ইচ্ছেপূরণে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় হেলিকপ্টারে চড়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ীতে ফিরলেন প্রবাসী মিলন মধু। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার নারকেল বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে অবতরণ করে বেসরকারি কোম্পানির একটি হেলিকপ্টর। এ সময় মিলন মধু তার স্ত্রীকে নিয়ে হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসেন। সাথে ছিল তার মা ললিতা মধু।

হেলিকপ্টার থেকে মিলন মধু তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে নামার সাথে সাথে বাজনা বাজিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে আত্মীয় স্বজন এবং এলাকাবাসী তাদেরকে স্বাগত জানায়।

মিলন মধু স্থানীয় নারিকেল বাড়ী গ্রামের সতীশ মধুর ছেলে মিলন মধু।সে দীর্ঘ ১৩ বছর জর্ডানে থাকেন।সম্প্রতি তিনি জর্ডান থেকে বাড়ীতে এসেছেন।

এর আগে গত শুক্রবার একই স্থান থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে মিলন মধু মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার মহিষমারি গ্রামে বিয়ে করতে যায়।

বিয়ের কনে মহিষমারি গ্রামের পলাশ সরকারের মেয়ে কলেজ ছাত্রী প্রেরণা সরকার। পারিবারিক ভাবে এই বিয়ে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী মিলন মধু।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে জর্ডান থাকি। ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট। আমার মা ইচ্ছা পোশন করেছিল আমি যেন হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যাই। তাই মায়ের ইচ্ছেপূরণে আমি হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যাই। আজ আমি আবার আমার মাকে সাথে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ীতে ফিরলাম। সোমবার বৌভাত অনুষ্ঠিত হয়। এই বৌভাতে আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাড়ী নিয়ে প্রায় হাজার খানেক মানুষকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

মিলন মধুর মা ললিতা মধু বলেন, আমার ইচ্ছা পূরণে মিলন আজ হেলিকপ্টারে চড়ে আমার বৌ মাকে সাথে নিয়ে বাড়ী ফিরলো। এতে আমার খুব আনন্দ লাগছে। আমি আমার ছেলে ও বৌমার জন্য সকলের কাছে আশির্বাদ চাই। ওরা যেন দাম্পত্য জীবনে সুখি হতে পারে।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য বিজয় মধু বলেন, মিলন সম্পর্কে আমার ভাতিজা হয়। সে তার মায়ের ইচ্ছাপূরণে হেলিকপ্টারে চড়ে বৌ নিয়ে বাড়ীতে ফিরলো। এতে আমরা খুব আনন্দিত। আমাদের এলাকায় হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে এটাই প্রথম।

নারকেলবাড়ী গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, এটি একটি রাজকীয় বিয়ে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। দু'দিন আগে মিলন হেলিকপ্টরে চড়ে বিয়ে করতে গিয়েছে। আজ আবার স্ত্রী ও মাকে সাথে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ীতে ফিরে আসলো। শুধু তাই নয়। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে মিলনদের বাড়ীতে খানাপিনা চলছে। আগামী দিন হবে বৌভাত। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে আমাদের এলাকায় আনন্দ মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

(টিবি/এসপি/এপ্রিল ২৭, ২০২৬)