স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বি-পক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের জন্য সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রস্তাব করেন।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, গতকাল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে।

সেই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই এই চুক্তির কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা জানি, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

সে সময় দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংকগুলো বারবার সতর্ক করেছিল যে, একটি অনির্বাচিত বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না। এই চুক্তিতে এমন অনেকগুলো ক্লজ আছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি।

নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে এই চুক্তি পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার কারও কথা শোনেনি। এই চুক্তিটি এখন সংসদে আনা হোক এবং জনস্বার্থবিরোধী হলে তা বাতিল করা হোক।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, মাননীয় সদস্য, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ ধারা অনুযায়ী, পয়েন্ট অব অর্ডার হতে হয় সংসদের চলমান বিষয়ের ওপর কিংবা সংসদীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে। আপনি একটি নতুন ও নীতিগত প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। আপনি যথাযথ বিধি মেনে নোটিশ দিন, সেটি তখন বিবেচনা করা হবে।

জবাবে রুমিন ফারহানা আরও এক মিনিট সময় চেয়ে বলেন, মাননীয় স্পিকার, মাত্র একটি মিনিট। এই চুক্তিটি যদি সরকার চায় তবে তারা বাতিল করতে পারে। আমি শুধু বলতে চাই, এটি অন্তত সংসদে উপস্থাপন করা হোক।

স্পিকার তার এই দাবি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, দুঃখিত, আমি এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে পারছি না। আপনি চাইলে নোটিশ দিতে পারেন।

(ওএস/এএস/এপ্রিল ২৯, ২০২৬)