শ্যামনগরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে পশু চিকিৎসককে অপহরণ
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : অনিমেষ পরমান্য নামের এক পশু চিকিৎসককে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণেল দাবিতে অপহরণ করা হয়েছে। গত শনিবার সকালের দিকে তাকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হরিনগরের সুন্দরবন বাজার এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়।
অপহৃত অনিমেষ পরমান্য সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ইউনিয়নের বৈশখালি গ্রামের নিতাই পরমোণ্যের ছেলে।
বৈশখালি গ্রামের প্রিয়নাথ পরমান্য জানান, তার বড় ভাই অনিমেষ পরমান্য (৪৬) দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কৈখালি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশু চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চাচাত ভাই সুব্রত পরমান্য এর কাছ থেকে সে ১০ কাঠা জমি রেজিষ্ট্রি করে নেওয়ার জন্য শনিবার দলিল লেখকের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। জমির মালিককে ইতিমধ্যেই দাদা অনিমেষ টাকা পরিশোধ করলেও দলিল সম্পাদন করে দেননি। রবিবার ছিল দলিল সম্পাদনের দিন। একই সাথে সুব্রত পরামান্য এর কাছ থেকে খলিলসহ দুইজন ১০ কাঠা করে একই দিনে দলিল সম্পাদন হওয়ার কথা ছিল। অনিমেষ দাদার জমির দলিল করতে এক দলিল লেখক ২৪ হাজার টাকা চান। অপরদিকে খলিল যে দলিল লেখকের কাছে দলিল করতে চেয়েছেন তিনি ২৬ হাজার টাকা চান। খলিল একই জায়গা থেকে দলিল করতে বলায় দুই হাজার টাকা কম লাগায় দাদা সেখানে যেতে রাজী হননি।
প্রিয়নাথ পরমান্য আরো জানান, শনিবার সকাল ৮টার দিকে তার দাদা বাড়ি থেকে পেশাগত কারণে বের হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হরিনগরের পার্শ্ববর্তী সুন্দরবন বাজারে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন অনেকে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বংশীপুর এলাকায় দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে না আসায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে মুঠোফোনের সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে দাদার মুঠোফোন থেকে বউদি সবিতা পরমান্যর কাছে ফোন দিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। বিষয়টি প্রশাসন বা সাংবাদিকদের জানালে দাদাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দাদাকে সম্ভাব্য সকল জায়গায় না পেয়ে তিনি রাত ৯টার দিকে শ্যামনগর থানায় ১০০ নং সাধারণ ডায়েরী করেন। শনিবার রাতে কয়েকবার টাকা চেয়ে ফোন করা হয়। শনিবার রাতে ও রবিবার পুলিশসহ সাংবাদিকরা তাদের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পরপরই বউদির মুঠোফোনে রিং করে সতর্ক করা হয়। পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারি সংস্থাকে বলে কোন লাভ হবে না।
অনিমেষকে জীবিত পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। রবিবার দুপুর একটা ৪২ মিনিট ও দুটো ৫১ মিনিটে বউদি সবিতার কাছে আবারো ফোন দেওয়া হয় টাকার জন্য। এমতাবস্থায় দাদার নবম শ্রেণী পড়ুয়া ছেলে নয়ন পরমান্য ও কেজি স্কুলে পড়াশুনারত মেয়ে পূজা পরমান্যকে নিয়ে বউদি সবিতা পরমান্য ও তাদের পরিবার পরিজন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এমনকি সবিতা পরমান্য বিষয়টি নিয়ে কারো কাছে মুখ খুলতে চাইছে না। তবে তিনি আশঙ্কা করছেন যে, জমি রেজিষ্ট্রির টাকা নেওয়ার জন্য দাদাকে শনিবারেই অপহরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সামছুর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে তিনি এলাকায় না থাকায় বিস্তারিত বলতে পারবেন না।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান জানান, অনিমেষ পরমান্যকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার ভাই প্রিয়নাথ পরমান্য শনিবার রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপার ও র্যাবকে অবহিত করা হয়। অনিমেষের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি কয়েকবার খোলা পাওয়া গেছে। মুঠোফোনের অবস্থান নিশ্চিত করে অপহৃতদের স্বজনদের সঙ্গে নিয়েই উদ্ধার অভিযান অব্যহত রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে অনিমেষকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
(আরকে/এসপি/মে ০৩, ২০২৬)
