‎সালথা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঠজুড়ে সবুজে ঘেরা পাটক্ষেত। এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট ও পেঁয়াজ। এবছর ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। আবহাওয়া পাটের অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পাটক্ষেতে। কোথাও আগাছা পরিষ্কার, কোথাও পোকামাকড় দমনে ওষুধ ছিটানো, সব মিলিয়ে এখন মাঠে কাজের চাপ বেশি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি সেচ, বীজ, সার, আগাছা পরিষ্কার ও পোকা দমন সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ অনেক বেশি হচ্ছে।

‎সালথা উপজেলার কৃষক দবির মোল্যা, হায়দার মোল্যা ও কাইয়ুম মোল্যা বলেন, এবার পাটের গাছ ভালো হয়েছে। কিন্তু খরচ অনেক বেড়েছে। তেলের দাম বাড়ায় জমিতে সেচ করতে বেশি টাকা খরচ হয়েছে। পাটের দাম যদি ভালো না হয়, তাহলে পাটে লাভ হবে না।

তারা আরো জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে আগে যেখানে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক সবকিছুর দামই এখন বেশি।

‎এদিকে পাটের দাম নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। কৃষকরা বলছেন, গত বছর তুলনামূলক ভালো দাম পেলেও প্রতি বছরই দামের ওঠানামা থাকে। তাই এবার উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটের দাম নির্ধারণের দাবি তাদের।

‎উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, গত বছর পাটের দাম ভালো পেয়েছে চাষিরা। এবছর জমিতে পাট গাছের গঠন অনেক ভালো আছে। আমাদের কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা ও তাদেরকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

(এএন/এসপি/মে ০৩, ২০২৬)