রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার আলামুন্সির মোড়ে একজন প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার পর ধর্ষক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শনিবার (২ মে ) দুপুরের দিকে পৌরসভার আলামুন্সির মোড় এলাকায় আকতার খানের ফার্নিচারের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

ধর্ষক আকতার খানের বাড়ি উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আড়িয়ারা গ্রামে। তিনি লোহাগড়া পৌরসভার আলামুন্সির মোড়ে ফার্নিচারের ব্যবসা করেন।

স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া পৌরসভার মাইটকুমড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা ইসলাম শেখের ১১ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়ে শনিবার (২ মে) দুপুরের দিকে পাশ্ববর্তী আলামুন্সির মোড় এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি নামলে ওই প্রতিবন্ধী মেয়েটি ফার্নিচারের দোকানে আশ্রয় নেয়। এ সময় ফার্নিচারের দোকানের মালিক আকতার খান ওই প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে ৫'শ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রবিবার ধর্ষণের ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়লে স্হানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী শিশুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এদিকে সোমবার (৪ মে) সকালে ধর্ষণের ঘটনায় ওই শিশুর পিতা ইসলাম শেখ বাদী ধর্ষক আকতার খানকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, 'আমি দিনমজুর, 'গুচ্ছগ্রামে বসবাস করি। যে আমার মেয়েকে যে ধর্ষণ করেছে, আমি তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।’

ঘটনার পর পরই ধর্ষক আকতার খান এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেন নাই। এমনকি তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নাই।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

(আরএম/এসপি/মে ০৪, ২০২৬)