রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার মাগুরা বৌবাজারে নারী ব্যবসায়ী বীথিকা সাধুকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর পুকুরের পানিতে ফেলে লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যবসায়ী অমিত হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। আজ মঙ্গলবার মামলার  তৎকালিন তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক শরিফুল ইসলামের ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন শুনানী শেষে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল দুই দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।

রিমাণ্ড মঞ্জুর হওয়া মোবাইল ব্যবসায়ি অমিত হাসান মাগুরা গ্রামের মিন্টুর ইটভাটা সংলগ্ন এবাদুল ইসলামের ছেলে। শহরের সদর হাসপাতাল মোড় এলাকায় অমিতের মোবাইল দোকান রয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

মামলার বর্তমান তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ জানান, বীথিকা সাধুকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে কার্তিক সাধু বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে ২৭ এপ্রিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বীথিকা ২৬ এপ্রিল রাত সাড়ে সাতটার দিকে মাগুরা বৌবাজারে নিজের দোকানে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বাঁশ বাগানের কাছে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য পার্শ্ববর্তী বাসুদেব সাধুর পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এ মামলায় শনিবার রাতে খুলনার লবণচোরা থানা এলাকা থেকে অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য রবিবার আদালতে ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানান মামলার তৎকালিন তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম। সোমবার তাকে পাটকেলঘাটা থানায় বদলী করার পর তাকে (সুশান্ত) মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। মঙ্গলবার উভয়পক্ষের শুনানী শেষে অমিত হাসানকে দুই দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আগামিকাল বুধবার তাকে কারাগার থেকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হবে।

তবে নিহতের জামাতা কেশব সাধু জানান, তার শাশুড়ির দুই কান ছেঁড়া ছিল। যাহা প্রমান করে তার সোনার দুল ছিনতাই করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৭ এপ্রিল রাতে এ মামলায় জাকির হোসেন ও সালাউদ্দিন মনা নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ এপ্রিল সামিউল আলম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

(আরকে/এসপি/মে ০৫, ২০২৬)