রিয়াজুল রিয়াজ, বরিশাল থেকে ফিরে : বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ টার্মিনালে প্রবেশের রাস্তার দুই পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা অবৈধ দখল করে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাসের কাউন্টার। প্রতিটি কাউন্টারের সামনে রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকছে বাস, যার ফলে টার্মিনালে প্রবেশ পথে যানজটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এতে জন দুর্ভোগ বাড়ছে, বাড়ছে ভোগান্তি, অপচয় হচ্ছে সময়। এসব নিয়ে সড়ক বিভাগে বেশ কিছু অভিযোগের কথা স্বীকার করলেও, এতোদিন শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে স্থানীয় সড়ক বিভাগ। এ নিয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি সড়ক বিভাগের। তবে, এবার সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করতে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে নিশ্চিত করেছেন বরিশালের সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর সড়ক সার্কেল।

এদিকে, টার্মিনালের ভেতরে পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে বাসের নির্দিষ্ট কাউন্টারের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও- কেনো টার্মিনালটির প্রবেশের রাস্তার দুই পাশে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে এসব কাউন্টার গড়ে তোলা হয়েছে, সেটির কোনো সঠিক উত্তর মেলেনি।

নথুল্লাবাদ টার্মিনালের এমন অব্যবস্থাপনার জন্য একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এমনকি টার্মিনালটির এমন অব্যবস্থায় বিরক্ত প্রকাশ করেছেন দেশের পরিবহনের সেক্টরের প্রতিনিধিত্ব করা এলাধিক ব্যবসায়ী। তারা এসব অব্যবস্থাপনার দ্রুত অবসান ঘটিয়ে টার্মিনালটির সঠিক ব্যবহার ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে দেশের প্রভাবশালী এক বাস মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, আগে টার্মিনালটি খুবই শৃঙ্খলার মধ্যে ছিলো, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এখানে বাসের যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর যাত্রীদের নিজেদের দিকে টানতে কয়েকটি বাসের কাউন্টার টার্মিনালের প্রবেশ রাস্তার দুইপাশে তৈরি করে বাস মালিকেরা। পরে আস্তে আস্তে অন্যরাও একই কাজ করলে প্রবেশ রাস্তাটির দু'পাশ পুরোপুরি দখল হয়ে যায়। অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই আমার বাসের কাউন্টারও ওই বাস্তার পাশে আনতে বাধ্য হয়েছি- বলেও জানান ওই বাস মালিক।

এদিকে, বরিশালের কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ টার্মিনালের এমন বিশৃঙ্খলার জন্য মালিক সমিতি সরাসরি শ্রমিক ইউনিয়নের ওপর দায় চালাপেও, বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন -এর সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল তা নাখচ করেছেন। মোস্তফা কামাল উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে এ বিষয়ে জানান, 'কেন্দ্রীয় টার্মিনালে প্রবেশ রাস্তার দুই পাশে বাস মালিকেরা যে কাউন্টারগুলো তৈরি করেছেন, তা তারা একান্তই নিজেদের উদ্যোগেই করেছেন। এখানে শ্রমিক ইউনিয়নের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই, বরং এ রাস্তার যানজট ও পরিবহন শৃঙ্খলা সামাল দিতে আমরা আমাদের ১০ জন স্টাফকে ট্রাফিক পুলিশের সাথে দিয়ে রেখেছি। তারা সারাদিন পুলিশের সাথে ট্রাফিকের কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর হঠাৎ করেই আমাদের এ টার্মিনালে পরিবহন কোম্পানি ও পরিবহন সংখ্যা দু'টোই বেড়ে যায়। তাদের সবাইকে ব্যবস্থা করতে হয় আমাদেরই। এক্ষেত্রে জায়গায় সংকুলানও কিছুটা রয়েছে। তারপরও বলবো টার্মিনালের প্রবেশ মুখের রাস্তায় অবৈধ এ কাউন্টারগুলো বাস মালিকরাই করেছেন, তাদের নিজ উদ্যোগেই করেছেন। এ কাউন্টারবগুলো সরকারি জায়গায় নাকি নিজেদের জায়গায় করেছেন তারা সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়, তা দেখবে সরকার। কারা সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করেছেন, কারা সিটি কর্পোরেশনের জায়গা দখল করেছেন কিংবা নিজেদের জায়গায় করেছেন সেটিও আমরা জানি না। কারোরই কাগজপত্রও আমরা দেখেনি। সরকারি জায়গা দখল করে কাউন্টার করলে সরকার ভাঙছে না কেনো- বলেও জানতে চান মোস্তফা।

এসময় উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে বরিশাল জেলার এই শ্রমিক নেতা আরও জানান, 'সরকারের জায়গা দখল হয়েছে, সরকার এসে অবৈধ দখলকৃত জায়গা উদ্ধার করলে এতে আমরা বাধা দিবো কেনো, এগুলো গড়ার সাথেও আমরা সম্পৃক্ত ছিলাম না, ভাঙার আগে-পিছেও আমরা সম্পৃক্ত থাকতে চাই না'।

উপরোক্ত বিষয়গুলো অবগত করে জানতে চাইলে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সড়ক সার্কেল-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, নথুল্লাবাদ টার্মিনালে প্রবেশের রাস্তার দুই পাশে আমাদের সড়ক বিভাগের জায়গা অবৈধভাবে দখন হয়ে গেছে, এ বিষয়টি আমরা অবগত আছি৷ অনেকগুলো অভিযোগের পর এ বিষয়টি নিয়ে এতোদিন কাজ করেছে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আমরা আমাদের জমি উদ্ধারের সমস্ত প্রস্তুতি আমরা শেষ করে রেখেছি। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করতে বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া একটু কঠিন হয়ে পড়েছে, টাইমিং হচ্ছে না। তবে, খুব শীঘ্রই একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা মাধ্যমে নথুল্লাবাদ টার্মিনালের সামনের রাস্তার দু'পাশের অবৈধভাবে গড়ে উঠা কাউন্টারগুলো উচ্ছেদ করে সড়ক বিভাগের জায়গা দখলমুক্ত করা হবে, এবং এতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই'- বলেও জানান বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সড়ক সার্কেল -এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান।

(আরআর/এসপি/মে ০৬, ২০২৬)