একরামুজ্জামান বিদ্যুৎ, বড়াইগ্রাম : রোকেয়া বেগম, বয়স ৬৬ বছর। হাঁটতে পারে না। দীর্ঘদিন অযত্নে-অবহেলায় ও অসুস্থ জীবন-যাপন করতে করতে এখন সে চলাচল করতে পারে না। প্রায় বছর খানেক ধরে বাস করছে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌর শহরের প্রফেসর পাড়ার স্থানীয় কবরাস্থানের পাশে খোলা আকাশের নীচে। একসময় স্বামী-সন্তান ও সংসার থাকলেও এখন তার পাশে কেউ নেই। রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করে যা পায় তা দিয়েই কোনরকম খাবার খেয়ে দিন পার করছে সে। যে কবরাস্থানের পাশে সে দিনের পর দিন পার করছে তার বিশ্বাস সেই কবরাস্থানেই তাকে সমাহিত করবে স্থানীয়রা। তার এই অসহায় জীবনচিত্র স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রচার করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আজ বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা সরেজমিনে উপস্থিত হন রোকেয়ার থাকার জায়গা ওই কবরাস্থানের পাশে। রোকেয়া তার জীবনের ঘটনা খুলে বলেন। মনোযোগ দিয়ে শোনেন ইউএনও এবং তাৎক্ষনিক একটি হুইল চেয়ার ও নগদ অর্থ এবং খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন তিনি। থাকার জায়গা হিসেবে খাস জমি খুঁজে একটি থাকার মতো ঘর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।

অসহায় রোকেয়া বেগম জানান, তার স্বামী আব্দুর রউফ এর তৃতীয় স্ত্রী ছিলো সে। উপজেলার বনপাড়া কালিকাপুর মহল্লায় স্বামীর বাড়িতেই ভালোই ছিলো। গত ১১ বছর আগে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর সে জানতে পারে তার নামে কোন জমি বা সম্পত্তি রেখে যায়নি স্বামী। এদিকে একমাত্র পুত্র সন্তান বিয়ে করে শ^শুরবাড়িতেই বসবাস করছে। মায়ের খবর ছেলে রাখে না। এরপর বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে থাকে রোকেয়া। কিন্তু আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়লে ধীরে ধীরে সে কর্ম অক্ষম হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে হাঁটতেও অক্ষম হয়ে পড়ে। গত ৬ বছর যাবত সে লাঠি ভর করে কোন রকম চলাচল করে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করে আসছে। তবে এখন আরও বেশী অসুস্থ ও হাঁটতে-চলতে না পারায় তার জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়ে। মৃত্যু খুব কাছাকাছি বুঝতে পেরে বনপাড়া পৌর শহরের প্রফেসরপাড়ার স্থানীয় কবরাস্থানের পাশে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান নেয় সে।

নাটোর পোস্ট এর সাংবাদিক জাহিদ আলী জানান, কবরাস্থানের পাশে এক বয়স্ক নারী অসহায় জীবন যাপন করছে জানতে পেরে তার ভিডিও নিউজ প্রকাশ করি। ফেসবুকে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে এবং তারপর ইউএনও ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা ওই নারীর প্রতি মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, অসহায় ওই নারীর জন্য থাকার জন্য একটি ঘর ও প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

(এবি/এসপি/মে ০৬, ২০২৬)