ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সন্তানের ভরণপোষণ (চাইল্ড সাপোর্ট) বকেয়া থাকা হাজারো আমেরিকানের পাসপোর্ট বাতিলের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

যেসব মার্কিন নাগরিকের ১ লাখ ডলারের বেশি সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া রয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে। এতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন পাসপোর্টধারী প্রভাবিত হতে পারেন। শুক্রবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে এই সীমা কমিয়ে ২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি বকেয়া থাকলেও পাসপোর্ট বাতিলের আওতায় আনা হতে পারে। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের তথ্য সংগ্রহ করছে, ফলে কতজন এতে প্রভাবিত হবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নতুন নীতির আওতায় যাদের পাসপোর্ট বাতিল হবে, তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যে ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যাবে না। বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এ উদ্যোগের ভিত্তি হচ্ছে ১৯৯৬ সালের একটি কম পরিচিত আইন, যা অনুযায়ী ২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পাসপোর্ট বাতিল করতে পারে। যদিও অতীতে এই আইন খুব কমই প্রয়োগ করা হয়েছে।

কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার বলেন, যারা তাদের দেনা পরিশোধ করবেন, তারা পুনরায় পাসপোর্ট ফিরে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, সন্তানের ভরণপোষণ বকেয়া আদায়ে কার্যকর প্রমাণিত একটি সাধারণ ও যৌক্তিক পদ্ধতি আমরা সম্প্রসারণ করছি।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, ফেব্রুয়ারিতে এ পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর থেকেই শত শত অভিভাবক তাদের বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রায় ৪৭ লাখ অভিভাবক বছরে গড়ে ৬ হাজার ৪০০ ডলার বা মাসে প্রায় ৫৩০ ডলার সন্তানের ভরণপোষণ পাওয়ার কথা ছিল। তবে মোট প্রত্যাশিত ২৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে তারা পেয়েছেন মাত্র ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সাল থেকে পাসপোর্ট জারির ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রায় ৬৫৭ মিলিয়ন ডলার বকেয়া সন্তানের ভরণপোষণ চাইল্ড সাপোর্ট আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরেই আদায় হয়েছে ১৫৬ মিলিয়ন ডলার।

(আইএ/এসপি/মে ০৮, ২০২৬)