প্রস্তত ছয় শতাধিক পশু
ডাচ ডেইরিতে কোরবানির পশু বেচাকেনা হচ্ছে লাইভ ওয়েটে
মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : কোরবানীর ঈদের আর মাত্র ৩ সপ্তাহের কম সময় বাকী। পশুর হাটগুলোর সরকারী ইজারা চলছে। এখনও কোথাও হাট বসেনি। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সাতঘড়িয়ার ডাচ ডেইরি ফার্মে ইতিমধ্যে কোরবানীর পশু বেচা কেনা শুরু হয়েছে। পর পর দুইবার জাতীয় স্বর্ণ পতক আর্জনকারী এই ফার্মটিতে কোরবানী পশু কিনতে ক্রেতা সাধারণ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এখানে ক্রেতাদের ভিড় থাকে বেশী।
সরজমিনে ডাচ ডেইরি ফার্ম ঘুরে দেখা ও জানা যায়, এখানে এবার ৬ শতাধিক কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ছোট বড় সব পশুগুলোই বেশ নাদুস নুদুস। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী পশুগুরোকে সারিবদ্ধ ভাবে খোলা পরিবেশে রাখা হয়েছে। টিন সেডের নীচে এক ধরণের খোলা পরিবেশেই গর বা পশুুগুলো লালন পালন করা হচ্ছে। ছোট ছোট খাচার মধ্যে পশুগুলো ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গলায় রশি দিয়ে পশুগুলোকে তেমন একটা বেধে রাকা হয়না। পশুর খাদ্য হিসেবে এখানে সাধারণত ভূট্টা গাছই খাওয়ানো হয়। জমি থেকে ভূট্টা গাছ কেটে এনে তা মেশিনে কেটে কোন প্রকার হাতের সাহায্য ছাড়া পশুর খাবারের নির্ধারিত স্থানে দেয়া হচ্ছে। আর পশুগুলোতে এক সাথে এ খাবার খাচ্ছে। এখানে দেশীগরুর পাশাপাশি বিদেশী জাতের গরুও রয়েছে।
এখানে কোরবানীর পশু বেচা-কেনা হয় লাইভ ওয়েটে। তবে বড় গরুগুলো লাইভ ওয়েঠে বেচা-কেনা হয়না। বড়গরুগুলো কোম্পানির সাথে দাম-দর করে কিনতে হয় (যেভাটে হাটে গরু বিক্রি হয়)। আর ২০০ থেকে ৩০০ কেজি ওজনের গরু গুলো ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ওজনের গরুগুলো ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এখানকার আরও একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে এরা আপনার ক্রয়কৃত পশুটি ফ্রি ডেলিভারীতে আপনার সুবিধামত সময়ে বাড়ি পৌছে দিবে।
তাছাড়াও এখানে ফ্যামিলি নিয়ে গরু দেখা ও কোনার সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন ঢাকা-নারায়নগঞ্জসহ আশে পাশের জেলাগুলো থেকে এখানে পরিবার পরিজন নিয়ে পশু কিনতে আসছে লোকজন। বিশেষ করে সাপ্তাহিত ছুটির দিনে এখানে ক্রেতাদের ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছে। টিন শেড ও পাকা ফ্লোর থাকায় এখানে হাটের মত ধাক্কা-ধাক্কি নেই। প্যাক কাদায় জামা কাপড় নষ্ট হবার কোন ঝামেলা নেই। খুব স্বাচ্ছন্দ পরিবেশে এখানে পশু কেনার সুযোগ রয়েছে। তাইতো দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতারা পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে পশু কিনতে ভিড় করছে। বুকিং দিয়ে চলে যাচ্ছে যে যার বাড়িতে। আর তাদের চাহিদা মত সময়ে ডাচ ডেইরি কর্তৃপক্ষ ডুকিং করা পশুটি বাড়ি পৌছে দিচ্ছে।
দেশের খ্যাতনামা রপ্তানিকারক গামেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানের সিস্টার কনসান ডাচ ডেইরির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর জিল্লুর রহমন রিপন মৃধা বলেন, আমরা প্রতি বছর আমাদের দুগ্ধজাত গাভীর সাথে কোরবানীর জন্য কিছু ষাঢ়গরু প্রস্তুর করে থাকি। এবছর আমরা ৬ শতাধিক ছোট বড় গরু প্রস্তুত করেছি। আমরা গরু মোটা-তাজা করণের কোন প্রকার ওষধ ব্যবহার করিনা। সারা বছর আমরা আর্গানিক পদ্ধতিতে পশুগুলোকে খাবার খাইয়ে থাকি। তাই আমাদের কোরবানির পশুর চাহিদা ক্রেতাদের কাছে দিন দিন বাড়ছে। ছোট ও মধ্যম আকৃতির পশুগুলো আমরা লাইভ ওয়েঠে বেচা-কেনা করে থাকি। অর্থৎ পুরো গরুটিকে আমার স্কেলে তুলে দিয়ে যে ওজন হয়, সেটিকে কেজি দরে বিক্রি করে থাকি। আর অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে আমার এসকল পশু হোম ডেলিভারী দিয়ে থাকি। সর্বপরি আমরা চেষ্টা করি আমাদের পশুদের ভাল মানের খাবার খাওয়াতে, যাতে ক্রেতার গো মাংসের আসল স্বাদ পায়। তার তাইতো একবার যে আমাদের কাছ থেকে কোরবানির পশু কিনে পরের পছর সে আর অন্য কোথাও যেতে পারেনা। আমাদের গরুর শতভাগ গ্যারান্টি রয়েছে।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানিয়েছেন, এবারের কোরবানির পশুর জন্য উপজেলায় ৫টি হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। এর বাইরেও দেশের অন্যতম যাচ ডেইরিসহ বেশ কিছু সংখ্যক ডেইরি পার্মে কোরবানির পশু বেচা কেনা শুরু হয়েছে। এবছর উপজেলায় কোরবানির গরুর কোন সংকট পড়বেনা। ক্রেতার সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে তাদের কোরবানির পশু গুলো কিনতে পারবে। পশুর হাটে যাতে অতিরিক্ত হাসিল বা রাজস্ব নেয়া নায় হয় সেজন্য প্রশাসনের লোকজন কাজ করবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, লৌহজং উপজেলায় ৮ হাজার ২২০টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ৬ হাজার ২৮৯টি, ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে ১ হাজার ৯৩১টি পশু। আমাদের প্রস্তুতি ভালো। মাঠপর্যায়ে আমাদের লোকজন কাজ করছে। গরুর মনিটরিংও ভালো চলছে। বাজারগুলোও তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ক্যাম্পেইনও চলছে।
তিনি আরও বলেন, গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে বলে আমরা ধারণা পাচ্ছি। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, তেলের বাজারের অস্থিরতা ও সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে।
(এমকে/এসপি/মে ০৯, ২০২৬)
