সঞ্জীব কুমার দাস, কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারদিকে শোকের মাতম, ঠিক তখনই শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গভীর রাতেই নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নিজ জেলা গোপালগঞ্জে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

শনিবার সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ জনকে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

জানা যায়, সাধারণত গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুপুর ২টার পর ময়নাতদন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে মরদেহের জখম এবং দ্রুত পচনের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বিশেষ ব্যবস্থায় রাতের মধ্যেই পাঁচটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন, নিহতদের স্বজনেরা মরদেহগুলো গাজীপুর থেকে বহুদূরের পথ পাড়ি দিয়ে গোপালগঞ্জে নেওয়ার জন্য প্রথমে সাধারণ পিকআপ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি জানার পর প্রতিকূল আবহাওয়া বিচলিত করে জেলা প্রশাসককে। বৃষ্টিতে মরদেহের অমর্যাদা ও পচন ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নিজ তদারকিতে দুটি অত্যাধুনিক ফ্রিজিং ভ্যানের ব্যবস্থা করেন। পরিবহন ও দাফন সংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক সহায়তার দায়িত্বও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হয়।

এ বিষয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, মানুষ চলে গেলেও তার মরদেহের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার পাইককান্দি গ্রামের শাহাদত মোল্লার কন্যা শারমিন খানম (৩৫), তার ভাই রসুল (২২), এবং শারমিনের তিন কন্যা মিম (১৬), মারিয়া (০৮) ও ফারিয়া (০২)।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শারমিনের স্বামী ফোরকান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

(এসকেডি/এসপি/মে ১০, ২০২৬)