‘পতিত সরকারের সময়ে নারী ও সংখ্যালঘুদের উপর জুলুম হয়েছে’
গোপালগঞ্জে প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিবকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্ট রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ টি অধ্যায় আছে। প্রথম অধ্যায় রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কার। অর্থাৎ আমরা চাই আইনের শাসন, আমাদের সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে। কারণ আগে যে পতিত সরকার ছিল, তার না ছিল বৈধতা, না ছিল আইনি কাঠামো। যার ফলে নিজে লুটপাট চালিয়ে গেছে। জনকল্যাণে কোন কাজ হয়নি। জনকল্যাণের নামে যেগুলো হয়েছে, তা তো আপনারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। দ্বিতীয় বিষয়ে যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হল বৈষম্য বিহীন অর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা।
কারণ আমরা অনুসন্ধান করেছি, ভবন নির্মাণ করে যেভাবে লুটপাট করা হয়েছে। ঠিক একই কায়দায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা করা হয়েছে, স্কুল করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কিন্তু বেকারত্বের যে অভিশাপ পতিত সরকার রেখে গেছে, তা আপনারা প্রতিটি পরিবারে হারে হারে টের পাচ্ছেন। আপনি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাচ্ছেন, কোন চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অ্যাম্বুলেন্স আছে। অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই। যন্ত্র আছে। যন্ত্র চালানোর মেকানিক নেই। আমরা চাই যে, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান হোক। বাংলাদেশ সুস্বাস্থ্যের নাগরিক হোক। আমরা চাই যে নারীর উন্নয়ন হোক। নারীর উন্নয়ন একটা দেশের উন্নয়নের পরিমাপক। আপনার খেয়াল করেছেন তার (পতিত সরকারের) সময় কি পরিমাণে নারীর প্রতি সহিংসতা করা হয়েছে? কি পরিমানে জুলুম হয়েছে? বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ জুলুম হয়েছে। যে পরিমাণ অত্যাচার হয়েছে। তা কিন্তু বর্ণনাহীন। আমরা দেখতে চাই, যে বাংলাদেশের সবার অধিকার আছে। কেউ সংখ্যালঘু না, সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক।
শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির হলরুমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড.আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সদস্য ডা.কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মোঃআরিফ -উজ-জামান, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ, খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কৃষক নিমাই কুমার রায়সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
কৃষক নিমাই কুমার রায় তার বক্তব্যে বলেন, বনদস্যুদের আক্রমন, রাস্তা ঘাট অনুন্নত ও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন হয়নি। এ কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে আমাদের জীবনবাজি রেখে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। আমরা টেকসই উন্নয়ন চাই। পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে সমস্যাগুলো চিহিৃত করে সমাধানের কার্যকরি উদ্যোগ দিতে হবে। তা হলেই আমাদের জীবনমানের সত্যিকারের উন্নয়ন কবে। নতুন সরকার আমাদের প্রত্যাশা পূরণে সবার্ধিক গুরুত্ব দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
উল্লেখ্য, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
(টিবি/এএস/মে ১৫, ২০২৬)
