শাহ আলী মাজারে লাঠিসোঁটা হাতে হামলা, পুলিশ বলছে কোনো হামলা হয়নি
মোহাম্মদ সজীব, ঢাকা : রাজধানীর মিরপুরে সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (র.)-এর মাজারে সাপ্তাহিক ওরশ চলাকালে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল লোক। বৃহস্পতিবার রাতে ওই হামলার শিকার কয়েকজন বলছেন, হামলাকারীরা 'জামায়াত শিবিরের' লোক। তবে পুলিশের দাবি, এটি কোনো হামলার ঘটনা নয়; বরং মাজার প্রাঙ্গণে মসজিদের সামনে মাদকসেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে মাজারের লোকজন তাদের বের করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল লাঠি হাতে মাজারে অবস্থানরত নারী-পুরুষকে মারধর করে দ্রুত স্থান ত্যাগে বাধ্য করছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়, একটি দল মাজারে প্রবেশ করে তারা রওজার আশপাশে অবস্থানরত মুরিদ ও জিয়ারতকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় আতঙ্কে অনেকে ছোটাছুটি করে পালিয়ে যান। মাজারের অনুসারীরা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযান যদি হয়ও, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে কারা লাঠিসোঁটা হাতে বিচারক হয়ে উঠছে। শাহআলী মাজারের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে, আর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহআলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে বলেন, মাজারে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। নামাজের স্থানের সামনে কয়েকজন বহিরাগত নারী-পুরুষ মাদক সেবন করছিল। তখন তাদের মাজারের লোকজন মিলে মাদক সেবীদের বের করে দেয়। পেটানো ও জামাতে ইসলামের লোকজন ছিল কিনা জানতে চাইলে বলেন ঘটনাস্থলে আমরা গিয়ে কোন বহিরাগত বা জামাতের লোকজনকে দেখি নাই। বা হামলার কিছু পাইনি এগুলো ইউটিউব ব্যাবসায়ীরা ভিউ কামাচ্ছে।
ডিএমপির দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার এমদাদ হোসেন বলেন, মাজার প্রাঙ্গণে মাদক বিক্রি ও সেবন রোধে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযান চালিয়েছে।
তবে ভিডিওতে প্রকাশ্যে লাঠিপেটার দৃশ্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা প্রশাসনের কাজ। সাধারণ মানুষ সামাজিকভাবে প্রতিবাদ করতে পারে। তবে শাহআলী মাজারে যারা অভিযান চালিয়েছে, তাদের বিষয়ে দলের কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছিল কিনা তা জানা নেই।
সাম্প্রতিক দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর নামে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
(এস/এসপি/মে ১৫, ২০২৬)
