নড়াইলে কৃষি ব্যাংকের ৮৭ লাখ টাকার পে-অর্ডার গায়েব, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নড়াইলের কালিয়া শাখায় ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা পে-অর্ডারটি সরিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে মামলা করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে সাতক্ষীরা মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা এনামুল কবির ওরফে ইমন প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও তথ্যপ্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না–সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা গ্রামের বাসিন্দা এনামুল কবির চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের কালিয়া শাখায় দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার জিম্মায় নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দলিলপত্র সংরক্ষিত ছিল।
এজাহারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, গত ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অফিস শুরুর আগেই শাখায় প্রবেশ করেন এনামুল কবির। সেদিন তিনি একটি নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারের পাতা (নম্বর-০৭২৬৯৯৯) সরিয়ে ফেলেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় বিষয়টি ধরা পড়ে।
পে-অর্ডারটি শাখার বাইরে নিয়ে একটি জালিয়াত চক্রের কাছে দেওয়া হয়। পে-অর্ডারটিতে শ্যামলী শাখার নাম, কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে জমা দেওয়া হয়।
নগদায়নের জন্য পে-অর্ডারটি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঢাকার স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ে পাঠানো হলে সন্দেহ হয়। প্রধান কার্যালয় থেকে কালিয়া শাখার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে পুরো ঘটনাটি সামনে আসে।
অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুল কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, দলিলপত্র আমার জিম্মায় ছিল, সেটি হারিয়ে গেছে। কিন্তু আমি কোনো জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নই।
মামলার বাদী কালিয়া শাখার ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(আরএম/এসপি/মে ১৫, ২০২৬)
