নড়াইলে বিএনপি নেতাকে আসামী করে হয়রানির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মীরা
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত মামলায় বিএনপি নেতাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ দলীয় নেতা-কর্মীরা।
হামলার শিকার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আখতার বাদী হয়ে গত ১৩ মে লোহাগড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১০।
দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী কোটাকোল ইউনিয়নের তেলকাড়া গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেল সিকদারের ছেলে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে। এছাড়া রায়পাশা গ্রামের উজির খান, বিশ্বাস, তেলকাড়া গ্রামের তরুন খানসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা রাতে কোটাকোল ও রায়পাশার মধ্যবর্তী এলাকায় অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা সাবেক ইউপি সদস্য মাওলানা সিরাজুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার স্বামী দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার জেরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে- দাবি ওই বিএনপি নেতার।
এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, আমি আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী। সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনের প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি সৃষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক, সেটাও আমিও চাই।
এদিকে, বিএনপি নেতা মোস্তাককে মামলার আসামী করায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড, খেলাধুলার প্রসার, মসজিদ-মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে নেতা-কর্মীদের অভিযোগ।
লোহাগড়া থানার ওসি মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
(আরএম/এএস/মে ১৭, ২০২৬)
