শীর্ষ ১০ ডিজিটাল অর্থনীতির দেশের তালিকায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ
স্টাফ রিপোর্টার : আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০টি ডিজিটাল অর্থনীতির দেশের তালিকায় জায়গা করে নেবে বলে মন্তব্য করছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ডিজিটাল অর্থনীতির একটি এবং পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে শীর্ষ ১০টি ডিজিটাল অর্থনীতির একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই।’
রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনের প্রধান সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভায় উপদেষ্টা এ কথা বলেন। বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতের সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে সভাটি হয়।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বিগত ২০ বছরের আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে কোনো দেশে ব্রডব্যান্ড ও ডেটার বিস্তার প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে সেই দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ থেকে ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল ডেটা বিস্তারের হার ১০ থেকে ৫০ শতাংশের ঘরে রয়েছে, যা ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে আরও বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, মোবাইল গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে অবস্থান করলেও সেবার মান, ডিজিটাল প্রস্তুতি, নির্ভরযোগ্যতা ও সহজলভ্যতার সূচকে এখনো বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে অতীতকে পেছনে ফেলে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এক নতুন লক্ষ্যমাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, টেলিকম খাতে করভার ৫১ থেকে ৫৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। এটি কমানোর উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে ফাইবার নেটওয়ার্ক, ফাইভ-জি, নির্ভরযোগ্য সংযোগ ও ডিজিটাল বৈষম্য কমানো সরকারের অগ্রাধিকার। পরিকল্পনায় রয়েছে ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ এবং জাতীয় ডেটাবেজ তৈরি করে এআই-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ডিজিটাল সংযোগ এখন শুধু যোগাযোগ নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জনসেবার মূল ভিত্তি। আইসিটি খাতকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এআই, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, বিপিও, ডাটা সেন্টার ও সাইবার নিরাপত্তার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করতে হবে।
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট’ এবং এআই-ভিত্তিক জাতীয় ডেটাবেজ গঠনের মাধ্যমে স্মার্ট গভর্ন্যান্স চালু করা হবে। স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য ধাপে ধাপে অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। তিনি বলেন, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, রেডিও থেকে শুরু করে ইন্টারনেট- প্রতিটি প্রযুক্তিই মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার মূল চালিকাশক্তি। নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেটিকে উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উদ্ভাবনের প্রথম শর্ত হলো সমস্যাকে চিহ্নিত করা। একটি বাস্তব সমস্যার সমাধানই ভবিষ্যতের বড় উদ্যোগ ও সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি।
(ওএস/এএস/মে ১৭, ২০২৬)
