জ্যৈষ্ঠের শুরুতে লাল লিচুতে রঙিন ঈশ্বরদী
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : গাছে গাছে ঝুলছে টুকটুকে লাল লিচু। কেউ গাছে উঠে লিচু ভাঙছেন, কেউবা নিচে বসে বাছাই করছেন। মান অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে ঝুড়ি। এরপর সেগুলো চলে যাচ্ছে স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের আমেজ।
জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে ঈশ্বরদী উপজেলার লিচুবাগানগুলোতে দেখা গেছে এমন কর্মচাঞ্চল্য। বর্তমানে মোজাফ্ফর বা দেশি লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে সুস্বাদু বোম্বাই জাতের লিচু পাওয়া যাবে।
লিচুচাষি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে লিচুতে লাল রং আসতে শুরু করেছে। বড় কোনো বিপর্যয় না হলে শুধু ঈশ্বরদী উপজেলায় এবার ৭০০ কোটি টাকার লিচু–বাণিজ্য হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, ঈশ্বরদীতে ৩,১০০ হেক্টর জমিতে এবারে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তীব্র তাপে কিছু লিচু নষ্ট হয়।
শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে ঈশ্বরদীর লিচুবাগানগুলো ঘুরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বাগান চোখে পড়েছে উপজেলার সাহাপুর, সিলিমপুর, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি, জয়নগর, মানিকনগর, আওতাপাড়া ও বাঁশেবাদা এলাকায়। টুকটুকে লাল লিচুতে রঙিন হয়ে আছে চারপাশ।
এদিকে লিচু বেচাকেনার জন্য অস্থায়ী হাট বসেছে উপজেলার জয়নগর, শিমুলতলা, আওতাপাড়া ও সিলিমপুর এলাকায়। মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারেরা এসে লিচু কিনছেন। ট্রাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বর্তমান পাইকারি বাজারে প্রতি হাজার দেশি লিচু মানভেদে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অল্পস্বল্প বোম্বাই লিচু মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে।
আওতাপাড়া গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী হাসান আলী বলেন, ঈশ্বরদীর লিচু বেশ সুস্বাদু। ফলে দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার মোকামে লিচু পাঠানো শুরু হয়েছে।
ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয় আশির দশকে। ওই সময়ে শৌখিন কিছু মানুষ বাড়ির আঙিনায় লিচুর চাষ শুরু করেন। অন্য ফল-ফসলের তুলনায় বেশি লাভ হওয়ায় লিচু চাষে ঝুঁকতে থাকেন চাষিরা। বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার ধার থেকে লিচু চাষ ছড়িয়ে পড়ে মাঠে-ময়দানে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মমিন বলেন, গ্রীষ্মের শুরুতে বড় আকারের ঝড়–বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন ভালোই পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, উপজেলাটিতে যে পরিমাণ লিচু উৎপাদন হয়, সে বিবেচনায় এখানে লিচু সংরক্ষণাগার (হিমাগার) প্রয়োজন।
(এসকেকে/এএস/মে ১৭, ২০২৬)
