আমানতের আর্তনাদ
মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু
পরিবারকে সুখে রাখতে
কত যুদ্ধ মানুষ করে,
রোদে পুড়ে, ক্ষুধা গিলে
স্বপ্ন বোনে ভোরের তরে।
দিনশেষে ক্লান্ত শরীর
ফিরে আসে নীরব ঘরে,
সন্তানের একচিলতে হাসি
আলো জ্বালে বুকের ভেতরে।
সেই হাসির ভবিষ্যতের জন্য
জমে অল্প অল্প ধন,
রক্তঘামে গড়া টাকায়
বেঁচে থাকে হাজার স্বপন।
নিরাপদের আশায় মানুষ
বিশ্বাস বুনে ব্যাংকের দ্বারে,
তিলে তিলে ঘাম ঝরানো
সঞ্চয় রাখে ভবিষ্যতের তরে।
হঠাৎ দেখি নেকড়ের দল
সভ্যতার মুখোশ পরে,
ক্ষমতা আর মিথ্যার জোরে
নামে লুটের কালো ঘোরে।
মানুষের রক্তঘামে গড়া
স্বপ্ন ভাঙে নীরব নিশ্বাসে,
লোভের বিষে উন্মত্ত তারা
হাসে সর্বনাশের উল্লাসে।
লুটের কালো দাগ ঢাকিতে
অন্য মুখে তোলে অভিযোগ,
মিথ্যার ধোঁয়া ছড়িয়ে দিয়ে
সাজায় নতুন ষড়যন্ত্রের যোগ।
নিজের পাপের ভার লুকাতে
দোষ চাপায় নিরীহ প্রাণে,
মানুষের আমানত লুটে
মাতে শকুন উৎসবগানে।
ব্যাংকের অন্ধ ভল্টের ভেতর
জ্বলে ওঠে লোভের আগুন,
পুড়ে যায় শ্রমিকের রোদঝরা ঘাম,
কৃষকের সোনালি ফসলের স্বপন।
ভেঙে পড়ে বৃদ্ধ পিতার
শেষ বয়সের সঞ্চিত ভরসা,
এক নিমেষে ছাই হয়ে যায়
হাজার জীবনের আশা।
কারো থেমে যায় মেয়ের বিয়ে,
কারো নিভে যায় ঘরের চুলা,
কারো সন্তানের বইখাতা
অভাব এসে দেয় ভুলা।
স্ত্রীর চোখে জমে থাকে
অপূর্ণ চাওয়ার নীরব ক্ষত,
সন্তানের ছোট্ট আবদারও
আজ নীরব, ক্লান্ত, অবনত।
ওষুধহীন কাতর মানুষ
মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে,
টাকার অভাবে হাসপাতালের দরজা
বন্ধ থাকে অসহায়ের তরে।
কত মা আজ না খেয়ে থাকে,
কত শিশু ঘুমোয় কান্নাভেজা রাতে,
আর লুটেরা হাসে নিষ্ঠুর তৃপ্তিতে
রক্তমাখা এই জনপদজুড়ে।
টাকা হারিয়ে নিঃস্ব মানুষ
কেঁদে ফেরে পথে পথে,
বুকভাঙা আর্তনাদ তুলে
চিৎকার করে ক্ষতের ক্ষোভে—
“আমার টাকাগুলো ফেরত দাও,
ওগুলো আমার জীবনের ঘাম,
ওগুলো আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ,
ওগুলো আমার বেঁচে থাকার নাম!”
“অমানতের টাকা ফেরত চাই”—
এই ধ্বনিতে কাঁপুক দেয়াল,
কাঁপুক লোভী সিংহাসন,
ভেঙে যাক প্রতারণার জাল।
এই টাকা দয়া নয়,
এ আমাদের জীবনের ঘাম,
এ লুটেরাদের দান নয়,
এ জনগণের ন্যায্য অধিকার।
ক্ষুধার্ত মানুষের চোখে
যখন জ্বলে প্রতিবাদের আগুন,
তখন প্রাসাদও কেঁপে ওঠে,
ভেঙে পড়ে মিথ্যার আইন।
যারা জনগণের সঞ্চয় লুটতে
রাজপথ রক্তাক্ত করেছে,
ইতিহাস একদিন তাদের নাম
অভিশাপ হয়ে লিখে রাখবে।
আজ যারা ক্ষমতার ছায়ায়
অহংকারে বুক ফুলায়,
কাল তারাই জনতার আদালতে
উত্তরের ভাষা খুঁজে না পায়।
মানুষ আজ নত নয় আর,
জেগে ওঠে অধিকার চেনে,
যে হাত গড়ে দেশের ভবিষ্যৎ
সে হাত অন্যায় ভাঙতে জানে।
অমানতের প্রতিটি টাকায়
আছে সন্তানের ভবিষ্যৎ,
আছে মায়ের ওষুধ কেনা,
আছে বৃদ্ধ বয়সের আশ্রয়।
যারা মানুষের স্বপ্ন লুটে
গড়েছে মিথ্যার প্রাসাদ,
মানুষের দীর্ঘশ্বাস একদিন
ভেঙে দেবে সেই উন্মাদ।
একদিন রাজপথের গর্জন
ঝড় হয়ে ভাঙবে অন্ধকার,
ফিরে আসবে মানুষের টাকা,
ফিরবে বঞ্চিত অধিকার।
ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে আবার
হাসি ফুটবে নতুন ভোরে,
মানুষ বুক তুলে বলবে—
“অমানত লুটেরাদের নয়,
এ দেশের শ্রমিক-জনতার।
যে ঘাম ঝরে মানুষের কপালে,
সেই ঘামেরই জয় হবে আবার।”
