স্টাফ রিপোর্টার : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা একটি কড়া নির্দেশনা দিয়েছি-জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কোনো কর্মসূচি কেউ করতে পারবে না। রাস্তার মোড় বা রাস্তা বন্ধ করে মঞ্চ বানিয়ে কোনো আলোচনা সভা করা যাবে না। ফাঁকা জায়গা বা অডিটোরিয়াম ব্যবহার করতে হবে।

তিনি জানান, জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৭ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ঈদের কারণে দু-একদিন হেরফের হলেও মূল কর্মসূচিগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

ঘোষিত মূল কর্মসূচি
৩০ মে ভোর ৬টা: নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সব দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।

৩০ মে সকাল ১১টা: দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এরপর জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ: দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় দুস্থদের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।
৩১ মে (রোববার) দুপুর ২টা: বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর রমনা ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সারাদেশ ও অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচি
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারাদেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিটে ৩০ মে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন এবং সুবিধামতো সময়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।

এছাড়া অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে-ওলামা দল আলোচনা সভা, জাসাস সেমিনার, মুক্তিযোদ্ধা দল জিয়ার যুদ্ধকৌশল নিয়ে সেমিনার এবং ছাত্রদল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিলাদ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। পাশাপাশি যুবদল ১০টি বিভাগে ১০টি আলোচনা সভা ও পোস্টার প্রকাশ করবে। স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও তাঁতী দলও নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে শহীদ জিয়ার অবদান তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, যে গণতন্ত্রকে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি হত্যা করে বাকশাল গঠন করা হয়েছিল, সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি শুধু অর্থনীতির উন্নয়ন বা উৎপাদন দ্বিগুণ করেননি, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকেও শক্তিশালী করেছেন। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের কৃষিক্ষেত যখন বিরান হচ্ছিল, শাখা নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছিল- তখন তিনি আন্তর্জাতিক দরবারে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতের সরকার ১০ টাকা কেজি চাল, ঘরে ঘরে চাকরি, বিনামূল্যে সার দেওয়ার মতো যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল, আজ তারা জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে নানা রকম বিভ্রান্তিকর কথা বলছে। কিন্তু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে জনকল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে বলে জনগণের মধ্যে আশার আলো ছড়িয়েছে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে যৌথ সভার বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল। এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

(ওএস/এএস/মে ১৮,২০২৬)