কোটালীপাড়ায় শিক্ষকের স্থায়ী বদলীর দাবীতে মানবন্ধন বিক্ষোভ
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীসহ শাস্তিুর দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।
গতকাল রবিবার সকালে ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে শতাধিক অভিভাবক অংশ নেয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসসূত্রে জানা গেছে, সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্লাস ফাঁকি, শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণসহ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একপর্যায়ে তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীর দাবী এনে অভিভাবকেরা দুইদিন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন। এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষক তপতী বাড়ৈকে মৌখিকভাবে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে স্থানান্তর করেন। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপতী বাড়ৈকে শাস্তিসরুপ লঘু দন্ড প্রদান ও স্থায়ী বদলীর সুপারিশ করেন। অতি সম্প্রতি তপতী মৌখিক ডেপুটেশন বাতিলের আদেশ চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থী অভিভাবকরা।
অভিভাবক শাহানাজ বেগম বলেন, আমার দুটি সন্তান এখানে লেখাপাড়া করে। আমাদের সন্তানদের ভালোর জন্য চরিত্রহীন, অদক্ষ, বেয়াদব ও মামলাবাজ শিক্ষক তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি। শিক্ষা অফিসের তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলী না হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
অভিভাবক বোরহান খান বলেন, আমরা বহুবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। তিনি উল্টো ভয়ভীতি দেখান। শুনেছি তার একাধিক বিয়ে রয়েছে। এক শিক্ষা অফিসারকে ফাঁসিয়ে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার কারণে এখানে ভালো কোন শিক্ষক থাকতে পারেন না। অনেক সহ্য করেছি আর না। আমরা তার স্থায়ী বদলী চাই। কতৃপক্ষ যদি ৩ দিনের ভিতরে স্থায়ী বদলী না করে তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদের এখানে পড়াবো না।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি হোসেন মোল্লা বলেন, যেখানে বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা চায় না তিনি এখানে থাকুক। তার স্থায়ী অপসারনের জন্য অভিভাবকেরা আন্দোলন করছে অন্যদিকে তিনি ডিপিইও, টিওসহ অনেকের নামে মামলা করছেন এই স্কুলে থাকার জন্য। এর আগে অভিভাবকদের অভিযোগ ও আন্দোলনের সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিক, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন অদক্ষ শিক্ষক তপতী বাড়ৈ। তপতী বাড়ৈর এত অপশক্তির উৎস্য কোথায়, আমরা তা জানতে চাই? তপতী বাড়ৈ শিক্ষক নামের কলঙ্ক।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় স্থায়ী বদলীর জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ৩ টি শুণ্য বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছিল। অনেক আগেই তালিকা দেওয়া হয়েছে। কেন স্থায়ী বদলী হচ্ছে না সেটা জেলা অফিসের বিষয়।
এ ব্যাপারে জানার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে কয়েকবার মোবাইলে কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
(টিবি/এসপি/মে ১৮, ২০২৬)
