পীযূষ সিকদার


আমার বড় ভাই সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের সাথে আমার বয়সের ফারাক অনেক। বাবাকে হারিয়েছি মুক্তিযুদ্ধে। কাকা দীনেশ সিকদার শহীদ হয়েছেন ১৯৭১ সালে। তাঁর নাম লেখা আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পোড়া মাটিতে। আমি বাবা-কাকাদের দেখি নাই। তাঁদের নিয়ে কোনো অনুভূতি কাজ করে না। কারণ, আমার মা আমাকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছেন দুঃখ আমাকে ছুঁতে পারেনি। মা চলে যাওয়ার পর, বুঝেছি মা কী! উন্মাদ এই আমিকে বারবার ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি। পারিনি। টাকা শেষ হলেই কানাইপুর। এতো কথা লিখছি নিজেকে জানান দেয়ার জন্য নয়। শহীদুল্লাহ সিরাজী ভাইকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করার জন্য। সিরাজী ভাই সেই ছোটবেলায় আমার কাছে হিরো। এতো সুন্দর হয় কোনো মানুষ! দাদা বললেন, সিরাজী তো আমার ছোট ভাই। সিরাজী ভাই স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে নাম জিজ্ঞেস করলেন। আমিও আমার নামটা গরগর করে বলে দিলাম। সিরাজী ভাই বললেন, যা তুই কবি হবি। মনটা ব্যথায় ভরে গেলো।

আমি হতে চাই অভিনেতা রাস্তায় রাস্তায় আমার ছবি টাঙানো থাকবে আর সিরাজী ভাই বললেন, তুই কবি হবি। আমি যখন কথা বলছি তখন টিভি ছেয়ে গেছে গ্রামে-গঞ্জে। হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় দেখে দেখে যখন স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। তখন সিরাজী ভাই বর দিলেন তুই কবি হবি। মনটা ভীষণ খারাপ। সিরাজী ভাই বললেন, মন খারাপ করলে কেনো! আমি চুপচাপ। আমার বড় ভাই বললেন, ও-তো কবি হবে না। ও অভিনেতা হবে। সিরাজী ভাই খিলখিল হাসি দিয়ে আকাশ-বাতাস কাপায়। কবি না হলে তুমি অভিনেতা হবে কেমনে! ওই প্রথম বুঝলাম শিল্পের যে শাখায়ই থাকি না কেনো তাকে কবি হতে হবে। আপনার পুরো নামটি কী! শহীদুল্লাহ সিরাজী। আমি ভেবেছিলাম আপনি হুমায়ুন ফরীদি? শহীদুল্লাহ ভাই রক্তাক্তমুখে হাসে। সে হাসি শুন্যে কী মিলায়! আমার কানের কাছে সে হাসি বৃত্তাকারে হাসতে থাকে।

পীযূষ মনে মনে বলে, আমার প্রিয় অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। কোথায় যে কী মিলল। তা বিধাতা জানেন। দাদার হাত ধরে কানাইপুর। মনে বাজে ফরিদপুর। শহর এতো সুন্দর। বাড়িতে এলেই ঘোর অন্ধকার। আমি তাই অন্ধকারকে ভালো বেসে বেসে সময় কাটাই।

শহীদুল্লাহ সিরাজী নিয়ে লিখতে বসেছি তার কারণ কবি শহীদুল্লাহ সিরাজী নেই। কবে চলে গেছে সুদূর সুদূরে। তাই মনে এলো সিরাজী ভাই। সিরাজী ভাই দেখতে সুন্দর। হাসেন সুন্দর করে। কোথায় যেন অন্তমিল পাইÑফরীদি ভাই ও সিরাজী ভাইয়ের। জানালা খুলি। ঘুটঘুটে অন্ধকার। সুদর্শন উড়ছে। জুনি লাইট। দেখে মনে হয়। মা বললো, বাবা জানালা বন্ধ করে শুয়ে পড়। রাত জাগিস না। আমি জানালা বন্ধ করে শুয়ে পড়ি। আমার মধ্যে শহীদুল্লাহ সিরাজী। তাঁরা পরিবারশুদ্ধ মেধায় আটা। সিরাজী ভায়ের হাসিটা দেখি। হেসে ওঠেন। আমিও মৃদু হাসিতে হাসিতে ঘুমিয়ে পড়ি।

সকালবেলা। তখন কেউ তাকে সকাল বলবে না। তবু আমাদেরকে ডেকে তুলতেই হবে। চোখে জল দিই। ঘুম যায় না। সিরাজী ভায়ের কথা শুনতে শুনতে কখন যে আবার ঘুমিয়ে পড়েছি। কারো অলক্ষ্যে।

ফরিদপুরে শম্ভুনাথে বসে চা খাচ্ছি। সিরাজী ভাই এলেন। অনেকদিন গত হয়ে গেছে। তাই তাকে চিন্তে আমার অনেক সময় লেগেছে।

পায়ে দামী কেড্স। দামী জামা, দামী প্যান্ট ও মাথায় ক্যাপ। দারুন লাগছে। আমার চিন্তে কষ্ট হলেও সিরাজী ভাইয়ের চিন্তে কষ্ট হয়নি। আমার পাশে এসে বসে আমাকে বললেন। চায়ের অর্ডার দাও। হুট করে মনে পড়ে গেলো এতো শৈশবে দেখা সেই শহীদুল্লাহ সিরাজী ভাই। আমি বললাম, আর কিছু খাবেন। না, চা হলেই চলবে। আমিও ততদিনে নিজেকেChange করে ফেলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। আমারও দাম হয়েছে। যদিও সে দাম চড়া দামে বিক্রি হয় না। তথাপি আমি শান্ত মেজাজে চা অর্ডার দিলাম। সিরাজী ভাই আমাকে দেখছে। মনে হলো সিরাজী ভাই পীযূষকে চেনার চেষ্টা করছে। শম্ভুদা চা দিলেন। এক সময় শম্ভুদার চায়ের দোকান ঘিরে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকের আড্ডা রমরমা ছিলো। এখন শম্ভুদাও নেই। সেই আড্ডাও নেই। সিরাজী ভাই চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে চা খাচ্ছে। আমি এই কবিকে দেখছি। যাকে একদিন হুমায়ুন ফরিদির সাথে গুলিয়ে ফেলেছিলাম!

শহীদুল্লাহ সিরাজী একসময় আমার নিকট আইডল ছিলো। বড় ভাই প্রবীর সিকদারের বন্ধু। তাকে তো সম্মান করতেই হয়। প্রবীর সিকদার কম মেধাবী ছিলেন না। একসময় রাজেন্দ্র কলেজের বার্ষিকী সম্পাদক ছিলেন। তার একটি কবিতা শহরের তরুণদের কণ্ঠে কণ্ঠে। দাদার এই প্রতিভা আমার চিরকাল মনে থাকবে। দাদা একটি জিনিস নিয়ে বেশীদিন থাকেন না। সবকিছু থেকে নিজেকে ছেড়ে চলে আসেন। তাই সে রোদ্দুর হতে পারেননি। দাদার লেখার ধার আছে। এখন তলোয়ার মরচে পড়া। সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত মানেন না। দাদা এক জীবনে কত কিছু করলো শেষ অবদি কোনকিছু দাঁড়ালো না। সিরাজী ভাই কবিতা ভালোবাসে, গল্প ভালোবাসে উপন্যাস ভালোবাসে। তাই নিয়েই কাটায় দিলেন সারাটা বেলা।

এতোকিছু লিখছি কারণ তাকে ভালোবাসতাম। তাঁর লেখনিপনা আমার ভালো লাগতো। ভালো লাগতো তার চলন। সিরাজী ভাইয়ের কাছ থেকেই জেনেছি কবি যে সে-তো মাস্তানও। তার মাস্তানীটা ভালো লাগতো। পুরো ফরিদপুর তার। পুরো বাংলাদেশ তার।

আজ শহীদুল্লাহ সিরাজী ভাই নেই। তাকে ডাক দিয়ে নিয়ে চলে গেছে মরণের ওপারে। তাই তাকে নিয়ে লিখতে কষ্ট হচ্ছে। বুকের কোণে ব্যথা অনুভব করছি। সিরাজী ভাই নেই। আর কোনোদিন আসবেন না। পীযূষ দশটি টাকা দাও। আমি দিতাম। কিন্তু এও জানতাম তার পকেট ভর্তি টাকা। আমি সিরাজী ভাই সম্বন্ধে তেমন কিছু জানি না। পান্নাদা বললো, তুই সিরাজী ভাইকে নিয়ে লেখ। আমি তো তার সম্বন্ধে অনেক কিছু জানি না। পান্নাদা বললো, যতটুকুন জানিস ততটুকু লেখ। আমার তো আবার কলম চলে মাইলে মাইল। জানি আমার লেখা হয় না। তবু লিখি। লেখার চেষ্টা করি। দেখা যাক কতদূর এগুনো যায়। তবে লিখি আমি নিজের তাগিদেই। যদিও তাগিদাটা এসেছিলো পান্নাদার কাছ থেকে। কতজনের কথা শুনে লিখি। আর পান্নাদা তো আপন মানুষ। এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে বলেছে, তার অনেকটাই অজানা। খানিকটা জানি। তারপরও শহীদুল্লাহ সিরাজী ভাই! আমাকে যেখানেই দেখুক সে নিজে এগিয়ে এসেছে। হাতে বই। কার লেখা। দেখানো যাবে না। তার লেখা আমার কাছ থেকে খালি লুকোতো। কেনো যে উনি এমন আচরণ করতো বুঝিনি। আজো সিরাজী ভাইকে বুঝি না।

একটা সময় আমরা বন্ধু হলাম। যদিও তিনি আমার বড় ভাই প্রবীর সিকদারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। চলে যেতাম ধলার মোড়। চলে যেতাম অম্বিকাপুর জসীমউদ্দীনের বাড়ি। হাতে থাপ্পর মেরে সিগারেট ধরা তো। আমি পরের সিগারেট খাই না। নিজেরটা নিজেই কিনে খাই। সিরাজী ভাইয়ের মধ্যে অস্থিরতা দেখতাম। সে অস্থিরতা কী লেখালেখির অস্থিরতা নাকি এ তাঁর স্বভাবসুলভ আচরণ। রিক্সায় আবার শম্ভুনাথ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে ঢাকা পদার্পন। সেই থেকে নিজের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাই না। প্রথমে আমার প্রিয় বন্ধু এহসানের সাথে গোড়ানের একটি বাসায় উঠি। দুজনের জন্ডিস। আমি ঘিওর। ও পিজি হাসপাতালে। ঘিওর থেকে কানাইপুর। ৬ মাস জন্ডিসে ভুগেছিলাম। তারপর একটি চাকরি নিয়ে ঢাকায়। চাকরি ছেড়ে আজিজ মার্কেটে সকাল থেকে রাত অবধি আড্ডা। আড্ডার বন্ধু বান্ধব জুটে গেলো। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্ঠ হলাম। সেই বন্ধুদের মধ্যে আমার অন্যতম বন্ধু সুহি। সুহি আবার খালি গলায় গান ভালোবাসতো। আমিও গাইতাম। কোনোদিন সুুহি খাওয়া তো কোনোদিন সূর্য ভাই। এভাবেই দিন কেটে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক রোবায়েত ভাইয়ের সাথে পরিচয় হলো। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে আড্ডায় মাতি। তার বাসায় যাবার অনুমতি পেলাম। তার মানে খাবার জুটে গেলো। রোবায়েত ফেরদৌস কেনো যে আমাকে বন্ধু হিসেবে ঈযড়ড়ংব করলো। আজো অজানা। রোবায়েত ভাইয়ের ৮টায় ঈষধংং। দরজা খুলে চলে গেলে হাতের মধ্যে দুশো টাকা পেতাম। মানে সারাদিন চলতে হবে! দুজনে ঘন্টার পর ঘন্টা রবীন্দ্র সংগীত শুনতাম। ভাবতাম এভাবে জীবনটা যদি চলে যেতো! জীবন কোনো দাবি-দাওয়া মানে না। এখন রোবায়েত ফেরদৌস কই আছে? জানা নেই।

লিখছিলাম শহীদুল্লাহ সিরাজীকে নিয়ে। চলে গেলাম আরেক গপ্পে। গপ্পো কী এমনি! তাকে আটকে বাধা যায় না। গপ্পতো এক বাঁধনহারা জীবনের নাম। তারপরও গপ্পকে কেটেকুটে ছোট করা হয়।

একটি কথা বলে রাখা ভালো যে, আমার জীবনটা অনেক কষ্টের সমষ্টি। কষ্ট ছাড়া আর কোনো গল্প বলতে পারি না। তারপরেও কষ্টকে ছেটেছুটে ছোট করি। এই লেখায় কষ্টের ছিটেফুটাও নেই। শহীদুল্লাহ সিরাজী নেই। কে বলেছে নেই। ছিলো। থাকবেও। মৃত্যু সবাইকে কষ্ট দিলেও আমাকে দেয় না। মৃত্যু-তো জীবনের চূড়ান্ত ফলাফল। একে মেনে নিতে কষ্ট কিসের!

সিরাজী ভাইয়ের হাসিটা আজো আমার চোখে ভাসে। কী দারুন একটা মানুষ। শিশু না হলে শিল্প ধরা দেয় না। আমার কাছে আজো সিরাজী ভাইকে শিশুই মনে হয়। ফরিদপুরে তার সাথে এক রকম জীবন কাটিয়েছি। ২০০২-২০০৩ সালে ইমাম চত্বরে দাঁড়িয়ে সিরাজী ভাই আখ খাচ্ছে। আমি চাইলাম দিলো না। আমি তার সুন্দরCap টা ছিনতাই করলাম। Cap নিয়ে সোজা কানাইপুর। Cap টি সিরাজী ভাই দেবে না। আমিও নাছোরবান্দা Cap আমি দেবো না। হঠাৎ ফোন আসে। সুবীর, রঘুকে বল, সিরাজীরCap টা দিয়ে দিতে। সুবীরদা বলে,Cap কার। সিরাজী ভায়ের। সুন্দরCap তো তাই ছিনতাই করেছি। দাদা বলেছে উনারCap উনাকে ফেরত দিতে। আমিCap নিয়ে সোজা শম্ভুদার চায়ের দোকানে। শহীদুল্লাহ সিরাজী মন খারাপ করে বসে আছে। Sorry সিরাজী ভাই ভুল করেছি।

এই নেন আপনার Cap। সিরাজী ভাই হেসে দিয়ে বলে, এক কাপ চা খাওয়া। আমি দুটো চায়ের অর্ডার দিলাম। চা এলো। সিরাজী ভায়ের আনন্দ আর ধরে না। Cap-এ সিরাজী ভাইকে দারুন লাগছিলো। আবারCap টি নিলাম। দেখেন তো আমাকে কেমন লাগছে? ভালো না। এই ভালো না বলার পেছনে অনেকLogic আছে। আমি আবারCap টা দিয়ে দিলাম। পান খাওয়াবে না? খান।

সিরাজী ভাই কবি। মনে হয় কবিরা এমন বাউন্ডুলে হয়। শহীদুল্লাহ সিরাজীর কথা মনে পড়লে কত সিরাজী’র কথা মনে পড়ে! হাবিবুল্লাহ সিরাজী। একটি পরিবারে এতো বড় বড় মানুষ থাকে! চিন্তার রেখায় লাগে টান! সিরাজী ভাই চলে গেলেন একেবারে নিভৃতে কাউকে কিছু না জানিয়ে। কী এমন অভিমান ছিলো আপনার। চলে গেলেন!

সিরাজী ভাই আপনার প্রস্থান মেনে নিতে পারছি না। অন্তত বাংলাদেশ আপনাকে জানুক! জানার আগেই চলে গেলেন ফিল্মী স্টাইলে! আচ্ছা সিরাজী ভাই, ভাবী কি আপনাকে চিনতো! আমার মনে হয় চেনার কথা নয়। আপনার ভার বহন করা কঠিন। হোক কঠিন। তারপরও তো একটু চেষ্টা করে দেখতে পেতো।

শেষের দিকে আজিজ মার্কেটে প্রায়শ: দেখা হতো। এখন আমিই চাইতাম। টাকা দেন চলে না আমার। টাকা দেন। তুই ফরিদপুর চলে যা। এই শহর তোর ওজন বহন করতে পারবে না। কী খাবি খা। আমি বিল দিচ্ছি। চোখের কোণে জল। পীযূষকে এভাবে শহীদুল্লাহ সিরাজী চেনে নাই! জমিদার বাড়ির ছেলে ঢাকায় এসেছে অভিনয় করবে বলে। যা চলে যা। দেরী করছিস কেনো। এ শহর সবাইকে ধরে রাখতে পারে না। আমি বললাম, আপনি? আমি? আমিতোFlat বেঁচে চলছি। বাড়ির জায়গাও কিছু বেচেছি। আমি একা মানুষ। চলে যাবে। তুই কেনো এখনো ঢাকায় পড়ে আছিস? অভিনয় যে আমাকে ছাড়ে না! অভিনয় করছিস? হ্যাঁ একটি Serial-এ কাজ করছি। টাকা পয়সা দেয়। দেয়। না হলে চলি কেমনে! সিরাজী ভাই বললো- তোর একটা লেখা পড়লাম। ভালো লেগেছে। আমি খুশীতে সিরাজী ভাইকে জড়িয়ে ধরলাম। আজ নিজেকে স্বার্থক মনে হচ্ছে। টাকা নেই। তাতে কী! আমার লেখার প্রশংসা করছে সিরাজী ভাই! যে আমার ছোট বেলার আইডল। যা। ফরিদপুরে যা। ভালো থাকবি। কই সিরাজী ভাই আপনাকে তো দেখছি না! আমি কানাইপুর থাকি এখন। মাঝে মাঝে ফরিদপুরে যাই। অর্কের জন্য পাগল থাকি কবে ও ঢাকাতে আসতে বলবে। অথচ বিজ্ঞাপন চিত্রের অডিশন দিতে ঢাকায় যাই। সবই হয় কিন্তু টিভিতে প্রচার হয় না। কষ্ট হয় সিরাজী ভাই। জোরে চিৎকার করে সিরাজী ভাইকে ডাকতে থাকি। সিরাজ ভাই বলে, এই নে ৪০০ টাকা। সোজা বাড়ি চলে যা। দহন জ্বালা থেকে মুক্তি নে। এখানে কেউ কাউকে জায়গা করে দেয় না। চলে যা কানাইপুর গ্রামে নাটক কর, অভিনয় কর। আসলে কী পীযূষ এখানে কেউ কাউকে মনে রাখে না! নেয়, দেয় না। সিরাজী ভাই আপনি কই? আপনার চারশো টাকা ফেরত দিবো! শহর ছেড়ে কেউ গ্রামে থাকে! আমি আপনার চারশত টাকা নিয়ে বসে আছি। আসেন। আপনার সেইCapটা কই। দারুন পছন্দ আমার। আপনি আমাকে দেননি কিছুই। যা দিয়েছেন তা টাকায় কেনা যায় না! আপনাকে খুঁজছি। কোন্ অজানায় পাড়ি জমিয়েছেন আপনি! কবিতার খাতা নিয়ে জেগে উঠি তাই মধ্য রাতে!

লেখক : শিক্ষক ও নাট্যকার।