ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : “উপাচার্য হওয়াটা একটি কঠিন দায়িত্বভার, এতে আমি কোনো আত্মগৌরব অনুভব করি না। সকলের সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রূপ দিতে চাই। কারণ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় হবে উত্তরাঞ্চলের জ্ঞান ও সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা” বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইসরাফিল শাহীন।

আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আধুনিক হল রুমে সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও জেলায় শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং ইপিজেড গঠনের পরিকল্পনা এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও এখন একটি নতুন সকালের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার ও পল্লীউন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন ড. ইসরাফিল শাহীন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে মন্ত্রীর রয়েছে গভীর আত্মিক সম্পর্ক এবং তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এ অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হয়েছে। তিনি আমার উপর আস্থা রেখেছেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ করার জন্য। সম্ভবত তাঁরই পরামর্শে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা, মতামত ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুনাম রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

এসময় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু,প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল লতিফ, জাকির মোস্তাফিজ সহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ড. শাহীন গত ৭ মে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।

(এফআর/এসপি/মে ১৯, ২০২৬)