কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নগরকান্দায় ষাঁড় গরু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত খামারিরা
প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, নগরকান্দা : আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে গরু মোটাতাজাকরণ ও প্রস্তুতির কার্যক্রম। উপজেলার ফুলসুতি, চরযশোরদী, রামনগর, পুরাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের ছোট-বড় খামারে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হচ্ছে শত শত সাড় গরু।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ এক বছর আবার কেউ দুই বছর ধরে যত্ন করে কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন। প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস, ভুসি ও দেশীয় খাদ্য খাইয়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। খামারিদের দাবি, তারা কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ব্যবহার করছেন না।
ফুলসুতি গ্রামের খামারি জামাল মেম্বার বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরুগুলো পালন করছি। এবার বাজার ভালো থাকলে লাভবান হতে পারবো বলে আশা করছি।”
তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে খামারিদের মধ্যে। পুরাপাড়া গ্রামের খামারি আবুল কালাম আজাদ জানান, “খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। তারপরও চেষ্টা করছি ভালোভাবে গরু প্রস্তুত করতে। সরকার সহযোগিতা করলে খামারিরা আরও লাভবান হবে।”
এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, কোরবানির পশু সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও খামারিদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নগরকান্দা উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলায় ষাঁড় গরু ৪ হাজার ৮৭৮টি, গাভী ২ হাজার ৫৯৮টি এবং ছাগল ১২ হাজার ৪৫২টিসহ মোট ২১ হাজার ৯৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮৭৩টি বেশি। খামারিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করা হয়।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলার বাইরেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
খামারিরা আশা করছেন, ঈদের বাজার জমে উঠলে ন্যায্য দাম পেয়ে তাদের বছরের পরিশ্রম সফল হবে।
(পিবি/এএস/মে ২০, ২০২৬)
