জমজমাট ঈশ্বরদীর গরুর হাট, ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট পাবনার ঈশ্বরদীর অরণকোলা পশুর হাটে বিপুল সংখ্যক গরু উঠেছে। তবে হাটে মানুষের ভিড় থাকলেও তুলনামূলক কম দেখা মিলছে প্রকৃত ক্রেতার। গরু দেখাদেখি ও দরদাম হলেও বেচাকেনা এখনো জমে ওঠেনি।
হাটজুড়ে লোকসমাগম চোখে পড়ার মতো হলেও বিক্রেতাদের অভিযোগ, “দেখার লোক বেশি, কেনার লোক কম।” অন্যদিকে গরুর দাম নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি। তবে কেউ কেউ বলছেন, দাম খুব বেশি বাড়েনি।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, পশুখাদ্যসহ অন্যান্য খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। সেই হিসাবে গরুর দাম তেমন বাড়েনি।
ঈশ্বরদী উপজেলায় মোট চারটি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে অরণকোলা ও আওতাপাড়া স্থায়ী হাট। এছাড়া নতুন হাট ও মুলাডুলি ছাগলের হাট অস্থায়ী। প্রতি মঙ্গলবার অরণকোলা এবং রোববার ও বুধবার আওতাপাড়া হাট বসে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) অরণকোলা পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাক, ভটভটি ও ট্রলিতে করে শত শত গরু আনা হচ্ছে। ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের গরুতেই ভরে উঠেছে হাট। ক্রেতারা পছন্দের গরু ঘুরে ঘুরে দেখছেন, দরদাম করছেন। ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে হাটে, যদিও কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হয়নি।
ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি গ্রামের সাঈদ হোসেন গরু বিক্রি করতে এসেছেন অরণকোলা হাটে। তিনি বলেন, “হাটে গরু কেনার লোক কম। সবাই ঘুরে ঘুরে গরু দেখছে, কিন্তু বেচাকেনা খুব একটা হচ্ছে না। ঈদের আগে আরও দুইটি হাট আছে, তখন বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।”
পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রাম থেকে ৩০টি গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, “লোকজন অনেক আসছে, কিন্তু প্রকৃত ক্রেতা কম। এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। দামও তুলনামূলক কম বলছে ক্রেতারা।”
অরণকোলা গ্রামের খামারি মিজানুর রহমান আটটি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কমই মনে হচ্ছে। ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম চলছে, তবে কেনার লোক আজ কম।”
গরু কিনতে আসা জয়নগর গ্রামের ইছাহক আলী বলেন, “হাট ঘুরে দেখলাম। গতবারের তুলনায় এবার দাম খুব বেশি মনে হয়নি। আরও কয়েকটি হাট দেখে তারপর গরু কিনবো।”
অরণকোলা পশুর হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান রুনু মণ্ডল বলেন, “হাটে গরু-মহিষ পর্যাপ্ত এসেছে। মানুষও অনেক, কিন্তু বেচাকেনা কম। ঈদের আগে শেষ দিকের হাটগুলোতে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।”
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, “উপজেলার চারটি পশুর হাটের জন্য দুটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ১০ জন সদস্য রয়েছেন। হাট চলাকালে তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হবে।”
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, “ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পশু পরিবহনের পথে চাঁদাবাজি ঠেকাতেও পুলিশ সতর্ক থাকবে।”
(এসকেকে/এসপি/মে ২০, ২০২৬)
