সোনাতলায় দারিদ্র্যকে জয় করে সফল খামারি নিত্য ঘোষ
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি মানুষকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে পারে—তারই উজ্জ্বল উদাহরণ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানীরপাড়া গ্রামের সফল খামারি নিত্য ঘোষ। দারিদ্র্য আর নদীভাঙনের নির্মম আঘাত পেছনে ফেলে আজ তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সফল গরুর খামার।
নিত্য ঘোষ উপজেলার নামাজখালী গ্রামের মৃত নিবারণ ঘোষের ছেলে। একসময় বাঙালি নদীর ভাঙনে তাদের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরিবার নিয়ে বাধ্য হয়ে নদীর ওপারে রানীরপাড়ায় আশ্রয় নেন তিনি। অন্যের জায়গায় ছোট্ট একটি ঘর তুলে কোনোমতে শুরু হয় নতুন জীবনযুদ্ধ। সংসারে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় থেকেই দুইটি গরু দিয়ে শুরু করেন খামার গড়ার স্বপ্ন। ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগই আজ বড় সফলতায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০টি গরু রয়েছে, যার অধিকাংশই দুধেল গাভী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাকডাকা ভোর থেকেই শুরু হয় গরুর পরিচর্যার কাজ। খামারের প্রতিটি কাজে নিত্য ঘোষের স্ত্রী ও সন্তানরাও সমানভাবে সহযোগিতা করেন। বর্তমানে তার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। স্থানীয় হাট-বাজার ও বিভিন্ন চায়ের দোকানে এসব দুধ বিক্রি করা হয়।
নিত্য ঘোষ বলেন, “একসময় আমাদের খুব অভাব ছিল। নদী ভাঙনে সব হারিয়ে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। পরিশ্রম করেছি বলেই আজ কিছুটা সফল হতে পেরেছি।”
নিত্য ঘোষের স্ত্রী জানান, গরুর গোবর শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি গোবর বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে। এতে সংসারের জ্বালানি চাহিদা যেমন মিটছে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও পরিবার লাভবান হচ্ছে।
খামারের আয় দিয়েই বর্তমানে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন নিত্য ঘোষ। ভবিষ্যতে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনে আরও বড় পরিসরে আধুনিক খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
নিত্য ঘোষ বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে খামার আরও বড় করতে চাই। এতে এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়দের মতে, নিত্য ঘোষের এই সফলতা এলাকার অনেক যুবকের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়েছে।
(বিএস/এসপি/মে ২২, ২০২৬)
