দিনাজপুরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩ পশু
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির জন্য দিনাজপুরের খামারগুলোতে প্রস্তুত রয়েছে ৪ লাখ সাড়ে ২৬ হাজারের বেশি পশু।
জেলার ১৩টি উপজেলায় এবার চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। জেলার ৬৮টি হাটে এসব পশু বিক্রির লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। শেষ মুহূর্তে খামারিরা প্রস্তুতকৃত পশু কোরবানির জন্য বাজারে তুলছেন। তবে গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পালিত পশুর দর-দামে বনছেনা তাদের। তবে পশু উৎপাদনে খরচ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কোরবানির হাটে দাম নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে।
দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, জেলায় এবার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি পশেু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬১টি বেশি। জেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারিসহ বিভিন্ন বাসা বাড়িতে এই গরুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। জেলায় এবার ষাঁড়, বলদ ও গাভী মিলে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া ও দুম্বা ১১টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
দিনাজপুর জেলায় ৬৮টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলায় এ বিষয়ে প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৩৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
বীরগঞ্জ উপজেলার গো-খামারি শিবরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সত্যজিৎ রায় কার্তিক জানায়, 'গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে আমরা খামারা চরম বিপাকে পড়েছি। পশু লালন-পালনে এবার ধরা খেতে হচ্ছে আমাদের। পশু মোটা-তাজা করণে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দরদামে মিলছে না এবার। ফলে অনেক খামারি পশু খামারেই রেখে দিচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোটা-তাজা করণ গো-খামার বীরগঞ্জের শিবরামপুরে রয়েছে।
তিনি বলেন গোখাদ্য, ওষুধ এবং শ্রমিকদের মজুরি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এতে গত বছর যে গরুটি তৈরি করতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল, এ বছর সেই একই গরুর জন্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলে গরুর দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
(এসএস/এসপি/মে ২২, ২০২৬)
