দিলীপ চন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করায় এক সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারপক্ষের ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন দেশ টিভি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ফরিদপুর প্রতিনিধি মো. আনিচুর রহমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতাধীন ভাঙ্গা উপজেলার পীরেরচর সিসি রাস্তা ও আরএইচ হাটখোলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের কাজের গুণগত মান ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সাংবাদিক আনিচুর রহমান, স্টার নিউজের ফরিদপুর প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান হিমন এবং আরটিভির ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি মোসলেউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, সংবাদ সংগ্রহের সময় ঠিকাদার সাইদুর রহমান জেভির লোকজন সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয় এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকার প্রলোভনও দেখানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিক আনিচুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি তার গতিবিধিও নজরদারিতে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে যান আনিচুর রহমান। হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করার পর সাব্বির নামের এক যুবকসহ ৬/৭ জন তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে।প্রাণ বাঁচাতে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের ১০ম তলায় উঠে গেলেও অভিযুক্তরা সেখানেও গিয়ে তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে জোর করে লিফটে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার চিৎকারে হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীর স্বজনরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, হামলাকারীরা তাকে হত্যার হুমকিও দেয়। ঘটনার পুরো দৃশ্য হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শনিবার (২৩ মে) সকালে সাংবাদিক আনিচুর রহমান বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, সাংবাদিক আনিচুর রহমানের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

(ডিসি/এসপি/মে ২৩, ২০২৬)