শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদীর চর দেবে ভাঙন আতঙ্কে ১০ গ্রাম
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাদিয়া এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর প্রায় ২৫০ ফুট চর দেবে গিয়ে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে বসতঘর ও জমি হারানোর শংকায় দিন কাটছে স্থানীয় পশ্চিম দুর্গাবাটি, পূর্ব দুর্গাবাটি, মাদিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, বড়কুপট, ছোটকুপট, পশ্চিম পোড়াকাটলা, পূর্ব পোড়াকাটলা, ভামিয়া ও কল বাড়ির কিছু অংশসহ ১০ গ্রামের অন্তত ৩০০ পরিবারের।
ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী জানান, গত বুধবার ভোরে চরের ওই অংশে প্রথমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট এলাকা দেবে যায়। পরে শনিবার সকাল থেকে ভাঙনের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়ে প্রায় ২৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষজন চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদিয়া এলাকার দূর্গাবাটী মন্দির সংলগ্ন নদীর চরে হঠাৎ করেই তীব্র ভাঙন শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে নদীর স্রোত ও জোয়ারের তীব্রতায় ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি নেতা রুস্তম আলী জানান, খোলপেটুয়া নদীর এই অংশ দিয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হবে। এতে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই তিনি ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নীলকান্ত রপ্তান বলেন, দূর্গাবাটী মন্দির সংলগ্ন মাদিয়া এলাকায় যেভাবে নদীর চরে ভাঙন শুরু হয়েছে, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দেবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বহু এলাকা নদীর নোনা পানিতে তলিয়ে গিয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী/শাখা কর্মকর্তা (শ্যামনগর পওর শাখা) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা জরুরী ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে ওই স্থানে জিও বস্তা ডাম্পিং কার্যক্রম চলছে।
(আরকে/এসপি/মে ২৩, ২০২৬)
