চৌধুরী আবদুল হান্নান


সিলেটের সুরমা নগরীতে এক মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে সম্প্রতি প্রাণ হারিয়েছেন র‍্যাব সদস‍্য ইমন আচার্য‍্য। একটি ব্রিজের নিচে কয়েকজন যুবক মাদক সেবন ও ক্রয়-বিক্রয় করার সময় কোতোয়ালি থানা পুলিশ আটকের চেষ্টা করলে তারা পালাবার জন‍্য মরিয়ে দৌঁড় শুরু করে।

র‍্যাবে কর্মরত কনস্টেবল ইমন আচার্য‍্য ওই সময় তার সামনে পড়া মাদক কারবারি পলায়নরত আসাদুল আলম বাপ্পীকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ইমনের বুকের বাঁ পাশে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে আঠক করতে সক্ষম হয়।

শুক্রবার ২২ মে দুপুর ১২ টার দিকে ছুরিকাঘাতের পর ওসমানি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। কোতোয়ালি থানা পুলিশের মাদক কারবারিদের ধরার অভিযানের সময় র‍্যাব সদস‍্য ইমনের তাতে সম্পৃক্ত না হওয়ার সুযোগ ছিল কিন্ত দায়িত্ব বোধ থেকে তিনি সাহসের সাথে এগিয়ে আসেন।

চাকুরিতে তিনি অপেক্ষাকৃত নবীন, সবাই যা করে তিনি তা রপ্ত করে উঠতে পারেননি যে, দায়িত্ব এড়িয়ে চলা বেশি নিরাপদ, যে বেশি দায়িত্ব পালন করে তার বিপদও বেশি। যার কাজ নেই তার জবাবদিহিতাও নেই, শুধু কৌশলী হয়ে সব ম‍্যানেজ করলেই হয়। এমন দুর্ভাগ‍্যজনক অবস্থা বিরাজমান দেশে। সবাই চাকুরি করে, কেউ দায়িত্ব করে না।

ইমন আচার্য‍্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার পশ্চিম দলই গ্রামের রণধীর আচার্য‍্যের ছেলে। কয়েক মাস আগে তিনি বিয়ে করেন, জীবনের শুরুতেই জীবন নিভে গেল। তবে এলিট ফোর্স র‍্যাব এর পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের এক অনন‍্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন তিনি। ইমন তার সবটুকু দিয়েছেন, এখন তাকে কিছু দেওয়ার পালা রাষ্ট্রের।

বাবা-মা, স্ত্রী স্বজনদের কাছে তো ইমনকে আর ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না, তার বীরত্বপূর্ণ ত‍্যাগের জন‍্য তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়া যায় এবং প্রয়োজনে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। তাতে সমাজে একটি বার্তা তৈরি হবে যে, রাষ্ট্র ভালো কাজের মূল‍্যায়ন করে এবং তাতে পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাব সদস‍্যগণ দায়িত্ব পালনে আরও অনুপ্রণিত হবেন।

ইমন আচার্য‍্য দেশের সংখ‍্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, সেক্ষেত্রে সম্মাননা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি তাই হয়, তা হবে বড় বেদনাদায়ক।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম, সোনালী ব‍্যাংক।