আহমেদ ইসমাম, ঠাকুরগাঁও : সময়ের কন্ঠস্বর ও দৈনিক আজকের পত্রিকায় কর্মরত ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক আল মামুন জীবনকে হত্যার হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার প্রতিবাদে ভানোর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল রানাকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুধীসমাজ।

আজ সোমবার দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তায় বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের আয়োজনে এই ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচী পালিত হয়।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য দেন বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম মশিউর রহমান, সাবেক সভাপতি জুলফিকার আলী শাহ, প্রবীণ সাংবাদিক এন এম নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক রাজিউর রহমান জেহাদ রাজু, বাংলানিউজ২৪-এর প্রতিনিধি রাসেল রানা মেহেদী এবং রূপালী বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইলিয়াস আলী হৃদয়। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ রায়হান দুলু, বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুরনবী, সাংবাদিক হাসান আলী, জিয়াউর রহমান ও আব্দুল মোমেন প্রমুখ।

বক্তারা জানান, ভানোর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল রানা গত ১১ মে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসহ আটক হন। পরদিন ১২ মে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। এই খবরটি সাংবাদিক আল মামুন জীবন তার পত্রিকা ও ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে গত ১৯ মে দুপুরে মুঠোফোনে সাংবাদিক আল মামুন জীবনকে হত্যার হুমকি দেন এবং তার বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন জুয়েল রানা। এই ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

মানববন্ধনে প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা অবিলম্বে এই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"

দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা এন এম নুরুল ইসলাম আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, "আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে হবে। মুখে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলে বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাবে—এটা সাংবাদিক সমাজ মেনে নিবে না।"

স্বাধীন সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ রায়হান দুলু বলেন, "সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। মাদক ব্যবসায়ীরা যদি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার সাহস পায় এবং প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলবে।"

সাংবাদিক জুলফিকার আলী শাহ ও ইলিয়াস আলী হৃদয় বলেন, "মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের ক্যান্সার। আমরা প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত এই মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।"

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি আরিফ হাসান, এটিএন নিউজের প্রতিনিধি এম এ সামাদ, কালবেলার প্রতিনিধি রবিউল এহেসান রিপন ও সাংবাদিক মাজহারুল ইসলাম হৃদয়সহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীবৃন্দ।

(এআই/এসপি/মে ২৫, ২০২৬)