শিতাংশু গুহ


চিত্রনাট্য একই, ইসলাম অবমাননা, শুধু স্থান-কাল পাত্র ভিন্ন। ইসলাম ধর্ম অবমাননা একটি ফাঁদ, হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ফাঁদটি ব্যবহৃত হয়, প্রায়শ: পরিকল্পিত। লক্ষ্য হিন্দুদের দেশত্যাগ করানো, ধর্মান্তরকরন, চাকুরীচ্যুতি, সম্পত্তি দখল, অথবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা। এতে ধর্মের কোন বিষয় নেই, বরং ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি। এটি নুতন ধান্ধা? খুব যে নুতন তাও নয়, ২০১২ সালে ‘রামু’র ঘটনা থেকে এর নুতন করে যাত্রা শুরু। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটুকু বলা যায়, হিন্দুরা বাংলাদেশে ইসলাম বা নবীর অবমাননা করেনা, এতটা সাহস তাদের নেই, রুচিও নেই। একশ্রেণীর মুসলমানই ইসলামের অবমাননা করে থাকে, যেমন রামু, নাসিরনগর, কুমিল্লার ঘটনা, প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন মুসলমান হিন্দু নাম নিয়ে ইসলামের অবমাননা করেছে। নাসিরনগরে জাহাঙ্গীর কাবার ওপর শীবের মুর্ক্তি স্থাপন করেছিলো, ইকবাল কুমিল্লায় হনুমানের কোলে কোরান রেখেছিলো-এগুলো পরিকল্পিত ঘটনা, এবং হিন্দুদের ফাঁসানো জন্যেই তা করা হয়। আপাতত:তিনদিনে ঘটে যাওয়া ৩টি ঘটনা দেখি: 

মিঠু মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে

গোপালগঞ্জে মিঠু মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রথমে আটক করা হয়, এবং এরপর স্কুলের চাকুরী থেকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়। তিনি কোটালীপাড়ায় পিঞ্জরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে কর্মমত ছিলেন। সনাতন টিভি মিঠু মন্ডলের হাতের লেখা পদত্যাগ পত্রটি প্রকাশ করেছে। মিঠু মণ্ডল এটি স্বাক্ষর করেছেন ২১শে মে ২০২৬। প্রধান শিক্ষক বরাবরে দেয়া এ পদত্যাগ পত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কটূক্তি করায় জনরোষের জন্যে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদ থেকে পদত্যাগ করছি’। তাঁর পদত্যাগ গৃহীত হয়েছে। তবে মিঠু ঠিক কি বলেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। সামাজিক মাধ্যমে জানা যায়, মিঠু নাকি বলেছেন যে, বিশ্বকাপ ফুটবলে কে জিতবে তা আল্লাও জানেনা’। পাঠক, এ মুহূর্তে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বিশ্বব্যাপী উন্মাদনা চলছে তা সবার জানা।

ভোররাতে আজানে হিন্দুদের অসুবিধা হয় বলায় গৌরাঙ্গ সরকার গ্রেফতার

গৌরাঙ্গ সরকার, ৪৫ সাতক্ষীরার বল্লি মোঃ মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ক্লাশে পড়াতে গিয়ে কোন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাতে (১২-৬টা) মাইকে আজান দিলে অনেকের অসুবিধা হয়। সাথে যোগ দেন, মন্দিরের মাইকে বাদ্যযন্ত্র বাজালেও অসুবিধে হয়। এ কথায় নাকি ধর্ম অবমাননা হয়েছে! দৈনিক সাতক্ষীরার সময় এবং সাতক্ষীরা ভিশন জানিয়েছে যে, পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর চাকুরিটি গেছে। দি বিজ্নেস ষ্ট্যাণ্ডার্ড পত্রিকা ২০শে মে ২০২৬ লিখেছে, গৌরাঙ্গ সরকার হিন্দুদের অসুবিধা হবার কারণে মাইকে উচ্চস্বরে ফজরের আজান (ভোররাতে) বন্ধ করার কথা বলেছেন। সনাতন মিডিয়া গৌরাঙ্গকে গ্রেফতারের ছবি ছাপিয়েছে। সাতক্ষীরা থানায় মামলা হয়েছে ১৯শে মে ২০২৬, মামলার নাম্বার ৪১, সেকশান ২৯৫ক/২৯৮। গৌরাঙ্গ কানধরে জনগণের উদ্দেশ্যে মাফ চান, ঘটনার সূত্রপাত ১৭ই মে ২০২৬ নবম শ্রেণীর অংক ক্লাশে। দি বিজ্নেস টাইমস এ ব্যাপারে একটি বিশদ রিপোর্ট করেছে।

শাওন নাকি কোরানের অবমাননা করেছে?

দিপু চন্দ্র দাসের পর এবার শাওন চন্দ্র দাস, ২৩! চিত্রনাট্য একই, ধর্মীয় অবমাননা। স্থান ময়মনসিংহ। শাওন নাকি তার ‘ইমো’ একাউন্টে ‘কোরান’ নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছেন। স্থানীয় তৌহিদী জনতা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, শাওন পালিয়ে যায়, একদিন পর পুলিশ তাঁকে ঢাকার তেজগাঁও থেকে গ্রেফতার করে। জি নিউজ ইংলিশ জানিয়েছে, শাওন মাঝিপাড়া, গৌরীপুরের সাধন চন্দ্র দাসের পুত্র। ভয়েস অফ মাইনরিটি শাওনের বাড়ীঘর ভাংচুরের খবর দিয়েছে।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।