মুন্সীগঞ্জের মহাসড়কে নারীর ছিন্নভিন্ন মরদেহ, পদ্মা নদীতে যুবকের গলিত লাশ
মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়ায় অংশের মহসড়কে এক নারীর ছিন্ন ভিন্ন মরদেহ পেয়েছে পুলিশ। অপরদিকে মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদী হতে যুবকের পচা-গলা মরহেদ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড। আজ শনিবার পৃথক পৃথক সময়ে রাশ তুটি উদ্দার করা হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে অজ্ঞাতনামা (৫০) এক নারীর ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গজারিয়ার পুরান বাউশিয়া এলাকার ঢাকাগামী লেন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে পথচারীরা সড়কের ওপর নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পথচারী আলী আজম জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় গিয়ে তিনি মরদেহটি দেখতে পান। তার ধারণা নিহত নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাকে প্রায়য়ই ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত।
ভবেরচর হাইওয়ে ইনচার্জ (ওসি) কামাল আখন্দ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে দ্রুতগতির কোনো গাড়ি ওই নারীকে চাপা দিয়ে চলে গেছে। পরে দীর্ঘ সময় মরদেহটি সড়কে পড়ে থাকায় তার ওপর দিয়ে আরও কয়েকটি গাড়ি চলাচল করে, যার কারণে মরদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্ত, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ী গাড়ি শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে মো. মেহেদি হাসনা (৩১) নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরহেদ উদ্ধার করেছে মাওয়া নৌ পুলিশ ও মাওয়া কোস্টগার্ড সদসরা। শনিবার বিকেল ৩ টার দিকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে পাবনার ঈশ^রদীর গাওগোয়াইন গ্রামের মো. ফয়েজ উদ্দিন মালিথার পুত্র।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাড়ির আইসি মো. ইলিয়াস জানান, মাওয়া চৌরাস্তা হতে পশ্চিম দিকে পুরাতন ফেরি ঘাট এাকায় একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়া। খবর পেয়ে মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সদস্যরা মৃতদেহটি উদ্ধার করে। তার পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে জানা যায় সে ঈশ্বরদীর গাওগোয়াইন গ্রামের মো. ফয়েজ উদ্দিন মালিথার পুত্র মো. মেহেদি হাসান। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সে গত ২৫ মে পরিবারের সাথে ঈদ করতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি রওনা দেয়। ওই দিন রাতে সর্বশেষ পরিবারের সাথে যোগাযোগ হলে সে জানায় আরিচা ফেরি ঘাটে আছে। এর পর থেকে পরিবারের সাথে তার আর কোন যোগাযোগ ছিলনা। স্বজনরা লাশ সনাক্ত করতে ঈশ্বরদী থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। লাশের গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে লাশটি অনেকটা পচে যাওয়ায় এরকম কিছু থাকলেও তা পরিলক্ষিত হয়নি। পোস্ট মর্টেমের জন্য লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। পোস্ট মর্টেমের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
(এমকে/এসপি/মে ৩০, ২০২৬)
