রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) বিকাল ৫টায় পৌরসভা সদরের প্রধান সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করে শ্যামনগর উপজেলাবাসী, উপজেলা সেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশন ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন সমূহ।

উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তব্য রাখেন, নিরাপদ উপকূল চাই নিউচার সভাপতি মো: মোমিনূর রহমান, উপকূলীয় যুব উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো: জাহিদ হোসেন, ভুরুলিয়া ইয়ুথ সোসাইটি পরিচালক রুহুল আমিন, সমাজসেবক মনিরুল ইসলাম মনির, সিডিও মো: হাফিজ, শরুবের নির্বাহী পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম, শ্যামনগর ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি সাইফুদ্দীন সিদ্দিক, হরিনগর স্বেচ্ছায় রক্তদান সংস্থার পরিচালক হাবিবুর রহমান, সিডিও’র পরিচালক ও গাজী আল ইমরান, উপজেলা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি এস.কে সিরাজ, হাফেজ তৌহিদ প্রমূখ। সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গ্রীষ্মকালের শুরুতেই শ্যামনগর পৌরসভাসহ গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এ সময় তারা বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল তৈরি বন্ধ, পাওয়ার স্টেশন ৩৩ কেভি থেকে ১০০ কেভিতে উন্নত করা, বিদ্যুৎ অফিসে মিটার নবায়ন ও পুনঃস্থাপনের নাম অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ করা, গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে ২৪/৭ প্রতিটি জোনে গ্রাহক সেবার জন্য হটলাইন চালু ও পেশাদারী আচরণ এর মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ, কার্যালয় দালালমুক্ত করাসহ পাঁচটি দাবি জানান। এর পাশাপাশি তারা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন অসংখ্যবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ এবং বিভিন্ন অফিস-আদালতের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ সময় মানববন্ধন থেকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শ্যামনগর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম ও এজিএম)-কে প্রত্যাহার বা অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

পল্লী বিদ্যুতের শ্যামনগরের ডিজিএম জিয়াউল হক বলেন, শ্যামনগরে প্রায় পৌনে এক লাখ গ্রাহকের জন্য ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিদ্যুৎ লাইনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন কারণে লাইন ফল্ট হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়কের চলমান উন্নয়নকাজের কারণে মেরামত কার্যক্রমেও কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন করা হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

(আরকে/এসপি/মে ৩১, ২০২৬)