ঈদের নামাজে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা
বিশেষ প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নে ঈদ-উল আযহার নামাজ আদায়ের সময় মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছেন।
আজ সোমবার সকালে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের নামাজ আদায়ের সময় মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া কে কেন্দ্র করে উপজেলার যশাই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহম্মদ আলী মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) বাক-বিতণ্ডের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে গত (৩০ মে) সকাল ৯ টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহম্মদ আলী মন্ডলের লোকজন প্রথমে হাসেম মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে থেকে শাকিল মাহামুদ সুজন কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে,এর আধাঘন্টা পর ভেল্লাবাড়ি ব্রিজের উপর থেকে মো: হাফিজুর রহমান পলাশ, লিপু মৃধা ও খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) কেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।পরে জলিলপাড়া এলাকার মো: চাঁদ আলীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে তার স্ত্রী মোছা: আলেয়া বেগম কে মারপিট করা হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাকিল মাহামুদ সুজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতরা সবাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) সমর্থক।
এই ঘটনার জের ধরে, ৩০ মে বিকেল ৩ টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) লোকজন হাজরাপাড়া খলিল মোড় থেকে মো: আক্তার হোসেন ও অন্তর কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এর আগে পৃথক দুটি স্থান থেকে মো: হানেফ, মো: জিলাল ও মো: আজাদ মন্ডল কে মারপিট করা হয়। আহতদের মধ্যে আক্তার হোসেন ও অন্তর গুরুতর আহত শাকিল মাহামুদ সুজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।আহতরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহম্মদ আলী মন্ডলের সমর্থক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহম্মদ আলী মন্ডলের সমর্থক আহত আজাদ মন্ডলের স্ত্রী রফেজা খাতুন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ সহ ৭/৮ জন কে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।
আসামিরা হলেন- খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু), রনি খন্দকার, রনজু খন্দকার, মো: আরিফ শেখ, আলিম মন্ডল, সামছুল খন্দকার, মো: সুমন মন্ডল ও মো: শুভ খন্দকার।
এছাড়াও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবীর (সাচ্চু) সমর্থক আহত রানা ইসলাম টিপু বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ সহ ১৫/১৬ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।আসামীরা হলেন- মো: ফজলু শেখ, মো: রাকিব মন্ডল, মো: সোহান মন্ডল, মো: আক্তার মন্ডল, মো: জিলাল মন্ডল, মো: সিদ্দিক মন্ডল, মো: আজাদ মন্ডল, মো: সাবু মন্ডল, মো: দোলন মন্ডল, মো: নজরুল শেখ,মো: রবিউল মিয়া ও মোহাম্মদ আলী।
(একে/এসপি/ জুন ০১, ২০২৬)
