শিতাংশু গুহ


তৃণমূল কংগ্রেস এখন ‘আদি তৃণমূল’ এবং ‘নব্য তৃণমূল’। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে সবকিছু উল্টেপাল্টে গেল। ভোটারের আঙ্গুলে কালির দাগ শুকাবার আগেই তৃণমূল ভেঙ্গে গেলো। সিপিএম’র গৌতম দেব ক’দিন আগে বলেছিলেন, ‘তৃণমূল হারলে দলটা ভেঙ্গে যাবে’। তাঁর কথা সত্য হলো। অভয়া মরে মমতা ব্যানার্জীকে শেষ করে দিলো। মমতা ব্যানার্জী হাদী’র মৃত্যু রহস্য জানেন, কিন্তু অভয়ার মৃত্যু রহস্য জানেন না? মমতা ভাইপোকে বাঁচাতে হাদীর প্রসঙ্গ টেনেছেন, কারণ বাংলাদেশে হাদীর খুনি জামাতীদের সাথে ভাইপো’র সম্পর্ক ছিলো, ভাইপো’র কাছের এক মুসলিম নেতা খুনিদের আশ্রয় দিয়েছিলো। বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে অমিত শাহের নির্দেশে খুনিরা গ্রেফতার হয়। আমার বহু লেখায় আমি বারবার বলেছি যে, দুই বাংলার জামাতী ও ইসলামী সন্ত্রাসীরা তৃণমূলের প্রশ্রয়ে একত্রে কাজ করতো। এটি এখন বন্ধ, বাংলাদেশে জামাত ও ইসলামপন্থীরা একারণে দিশেহারা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদি দুই খুনীর জবানবন্দি প্রকাশ করে তাহলে বাংলাদেশের ক’জন হোমড়াচোমরা এবং পশ্চিমবঙ্গে খুনিদের আশ্রয়দাতারা বিপদে পড়বেন। মমতা ব্যানার্জী ভাইপোকে বাঁচাতে ‘দেশদ্রোহিতা’ করেছেন।

হাদির খুনিরা ভারতে পালিয়ে গেছে। কেমনে পালালো? জামাতীরা সুযোগ করে দিয়েছে। সবকিছু আগে থেকে রেডি ছিলো। হাদির খুনিরা ত্রিপুরা-আসাম না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসার কারণ মমতা ও তৃণমূল তখন ক্ষমতায়, ভাইপো আশ্রয় দেবে। তাই খুনিরা কলকাতায় যায়, আসাম-ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার থাকলেও সেখানে যায়নি। সবই আগে থেকে নির্ধারিত, কারণ মমতা বেগম দুই বাংলার খুনি-সন্ত্রাসীদের পুষতেন। মনে রাখতে হবে, হাদির ভাই শরীফ ওসমান হাদি বলেছেন, ইউনুস সরকারের ২ জন উপদেষ্টা, এবং অধুনা বিএনপি’র জনৈক নেতা এর সাথে জড়িত। মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য সত্য হলে তিনি সেটা নির্বাচনে জয়ের জন্যে কাজে লাগাতেন। হেরে গিয়ে এখন এসব মিথ্যা বলার কারণ ‘ভাইপো’ক বাঁচানো, তিনি টের পাচ্ছেন এসব প্রশ্ন ভেতরে ভেতরে এখন উঠছে। তবে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ চমৎকার বলেছেন যে, একজন পরাজিত প্রার্থীর বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে আমলে নিচ্ছেনা। বাংলাদেশে হাদি নিহত হয়েছে আইএসআই’র ইন্ধনে ‘জামাত-ইউনূসের’ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে, এরসাথে বিএনপি-জামাত বা ভারতের কোন স্বার্থ নেই। আসলে মমতা ব্যানার্জী এখন পরিত্যক্ত। অনাদী চক্রবর্তী সঠিকভাবেই বলেছেন যে, আমরা ঠিকই বিজেপি’র বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবো, আপনাকে নিয়ে নয়, কারণ রাজ্যবাসীর কাছে আপনি পরিত্যক্ত।

মমতা ব্যানার্জি’র আসলে ‘আম ও ছালা’ দু’টোই গেছে। স্বরূপ ঘোষ বলেছেন, মমতা ব্যানার্জিকে নবান্ন ছাড়তে হবে জানতাম, কিন্তু দলও ছাড়তে হবে তা জানতাম না! কাজী মাসুম আক্তার বলেছেন, মমতার পতনের ফলে গুন্ডাতন্ত্র ও মোল্লাতন্ত্রের পতন হয়েছে। মমতা ব্যানার্জী’র মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে। ক্ষমতা হারিয়ে তিনি এখন ‘পাগলী’, তাঁকে চিকিৎসার জন্যে রাঁচি পাঠানোর দরকার। বাংলাদেশের মুসলমান মমতাকে ‘খুউব’ ভালবাসে, তাঁকে পাবনা পাঠালে ভাল হয়, ওখানেও পাগলের চিকিৎসা আছে! কলকাতার এক নারী অনিন্দিতা লিখেছেন, এমনিতে বুড়ি ‘শয়তান’ ছিলো, এখন ‘পিশাচ’ হয়ে সকল লাইন ক্রস করে গেছেন। আমার জীবনে আমি বহু নেতার উত্থান-পতন দেখেছি, কিন্তু ক্ষমতা হারিয়ে মমতার মত কাউকে ‘উন্মাদ’ হতে দেখিনি। মমতা বুঝতে পারছেন, তাঁর রাজনীতি শেষ, তৃণমূল কংগ্রেস শেষ, ভাইপো শেষ, মানুষ রাস্তায় দেখলেই ‘চোর’ ‘চোর’ বলে চেঁচাবে, হয়তো ‘পঁচা ডিম্’ ছুড়বে? আহা, ক্ষমতা, তুহি মম শ্যাম! শ্যাম বিনে মমতা বেগম বাঁচে কিভাবে? পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান যখন দেখবে মমতা শেষ, তখন তাঁকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেবে। অপেক্ষা করুন, ধৈর্য্য ধরুন, তাও দেখবেন।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।