বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ। আজ শুক্রবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংবাদ পাওয়া যায় যে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল উপজেলার তিষিগাড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে একটি রিভলভার, দু’টি ধারালো চাকু, একটি রেঞ্জ, একটি চাইনিজ কুড়াল, গামছা ও কাটার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আন্তঃজেলা পেশাদার ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা এর আগে নন্দীগ্রাম ও শিবগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত কয়েকটি ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। এছাড়া চৌমুহনী এলাকার একটি বাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে তারা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় দুপচাঁচিয়া থানার এসআই সজিব মাহমুদ বাদী হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ তাজমিলুর রহমান আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার (৫ জুন) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।

এতে জানা গেছে গ্ৰেফতারকৃতরা হলেন, জেলার কাহালু উপজেলার পুগইল এলাকার মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে মোঃ ইমরান হোসেন (৩০), দুপচাঁচিয়া উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার মোঃ নবাব আলীর ছেলে মোঃ সোহেল (২৮), কাহালু উপজেলার চানপুর এলাকার মোঃ আলমগীর হোসেনের ছেলে মোঃ রাব্বী হাসান (২১) এবং একই উপজেলার পাঁচপীর নলঘরিয়া এলাকার মোঃ আব্বাস আলীর ছেলে মোঃ হালিম (২০)।

এদিকে পুলিশের এই সফল অভিযানের ফলে একটি সম্ভাব্য ডাকাতির ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন এতে স্বস্তি ফিরেছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে।

(বিএস/এসপি/ জুন ০৫, ২০২৬)