লেবাননে নিহত শফিকুল-নাহিদের লাশ সাতক্ষীরার বাড়িতে
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : গত ১১ মে লেবাননে ইজরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। যথাক্রমে আজ রবিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে ও আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে এ লাশ পৌঁছানোর পর দুই বাড়িতে শুরু হয় শোকের মাতম।
নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৮) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে। আর নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২০) আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।
শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, তার স্বামীর মৃত্যুর খবরটি স্থানীয় প্রশাসন জানতে পেরে লাশ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করেন। সে অনুযায়ী রবিবার ২ টা ১০ মিনিটে লাশ লেবানন থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। রাত আড়াইটায় বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শ্যামা ওবায়েদ আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্বামীর লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শফিকুলের লাশ বাড়িতে আনা হয়। রবিবার বাদ জোহর স্থানীয় মসজিদের মাঠে নামাজে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে শফিকুলের লাশ দাফন করা হবে।
কাদাকাটি গ্রামের নাফিজ জানায়, সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের সাথে তার ভাই নাহিদুল ইসলাম নাহিদ একই দিনে একসাথে লেবাননে যায়। আবার একই দিনে একই সময়ে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় মারা যায়। একইসাথে লাশ দুটি সাতক্ষীরায় আনা হয়। তার ভাইয়ের লাশ রবিবার সকাল ১১টায় তাদের বাড়িতে পৌঁছায় । রবিবার বাদ জোহর নামাজে স্থানীয় মসজিদের মাঠে জানাজা শেষে ভাইয়ের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলামের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনরা ছাড়াও প্রতিবেশিরা ভিড় জমায়। সে সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত ব্রহ্মরাজপুর ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু, ভালুকা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আবু ওয়াহিদ বাবলু ও নিহতের স্বজনরা জানান, ভাগ্য পরিবর্তণে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শফিকুল ও নাহিদ লেবাননে যাওয়ার পর একবারই বাড়িতে ৪০ হাজার করে টাকা পাঠিয়েছিল তারা। ১১ মে ইসরাইলের ড্রোন হামলায় তারা মারা যায়। মৃত্যুর ২৭ দিন পর সরকারি উদ্যোগে রবিবার লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। একমাত্র উপার্জণক্ষম দুটি পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার পর ঋণগ্রস্ত রেমিটেন্স যোদ্ধা পরিবার দুটি যাতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় টিকে থাকতে পারে সেজন্য তারা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিত্তশীলদের কাছে আহবান জানান।
প্রসঙ্গত, শফিকুল আট লক্ষাধিক টাকা ও নাহিদ পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ঋণ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি লেবাননে যায়।
(আরকে/এসপি/জুন ০৭, ২০২৬)
