কাপ্তাইয়ে ৪ উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সিসিএইচপি’র জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা
রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে চার উপজেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে এক জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার সকালে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী সংলগ্ন এলাকার একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে ‘কমপ্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম (CCHP)’-এর উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হিল ফ্লাওয়ার’ (HILL FLOWER)-এর ব্যবস্থাপনায় এবং শেড (SHED), হোপ-অ্যাকশন-ট্রান্সফরমেশন ও জার্মানির দাতা সংস্থা 'ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড' (Brot für die Welt)-প্রোটেস্ট্যান্ট ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ প্রবির খেয়াং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: নাজমুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিসিএইচপি (CCHP)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজয় মারমা।
অনুষ্ঠানে জেন্ডার সমতা, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রতিবেদন তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মূল প্রবন্ধ ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সনজিদ তঞ্চঙ্গ্যা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, জেনিফার অজান্তা তঞ্চঙ্গ্যা। এছাড়াও মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন বেসিক মেডিকেল ওয়ার্কার ঞোম্রাচিং মারমা এবং পপি তঞ্চঙ্গ্যা।
কর্মশালায় কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, বিলাইছড়ি এবং রাজস্থলী—এই চার উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। উন্মুক্ত মতবিনিময় পর্বে সাংবাদিকরা পার্বত্য ও সংলগ্ন এলাকার জেন্ডার ভিত্তিক বৈষম্য, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির চ্যালেঞ্জ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উত্থাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাপ্তাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: নাজমুল হাসান বলেন, "পার্বত্য জনপদে জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ এবং প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকা প্রশংসনীয়। চার উপজেলার সাংবাদিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।"
সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ প্রবির খেয়াং বলেন, স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সচেতনতা একে অপরের পরিপূরক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে এই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় আমন্ত্রিত গণমাধ্যমকর্মীসহ ‘হিল ফ্লাওয়ার’ সংস্থার মাঠকর্মী ও কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আগামী দিনে জেন্ডার সমতা ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় মিডিয়া ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় ও নেটওয়ার্কিং আরও বৃদ্ধি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
(আরএম/এসপি/জুন ০৭, ২০২৬)
